প্রথম পর্ব পড়ে নিতে পারেন এখান থেকে।

এক.

আমার এই লেখাটির উদ্দেশ্য ছিলনা বরেন্য চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমের মুক্তি দাবী করা। আমি নিশ্চিত ভাবেই শহিদুল আলমের মুক্তি দাবী করি, কিন্তু এই বিশেষ ব্লগটির উদ্দেশ্য তা ছিলোনা। এই ব্লগপোষ্টটির উদ্দেশ্য ছিলো ড. শহিদুল আলমকে নিয়ে রাষ্ট্র প্রণোদিত যে মিডিয়া-বুদ্ধিজীবিতা এবং দানবায়ন প্রচেষ্টা চলছে তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। আগ্রহী পাঠকেরা উপরে দেয়া লিংক থেকে প্রথম পর্বের লেখাটি পড়ে নিতে পারেন এবং চাইলে যে লেখাগুলোর উপরে এই ব্লগটি লিখিত সেই উৎস লেখাগুলোও পড়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশের সরকার ও রাষ্ট্র অনুগত মূলধারার অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ২৪ডটকম এ লেখক শাশ্বতী বিপ্লবের লেখা দুই পর্বের একটি মতামত প্রবন্ধকে কেবল উপলক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করেছি এই ধরনের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পক্ষে কিভাবে রাষ্ট্রপ্রনোদিত বুদ্ধিজীবিরা সরব হয়ে ওঠেন, তা উল্লেখ করার জন্যে। আমি আগের পর্বেও উল্লেখ করেছি ব্যক্তি শাশ্বতী বিপ্লব আমার কাছে  অপরিচিত এবং গৌন, তাঁর চিন্তাপদ্ধতি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পৃষ্ঠপোষক অনলাইন মিডিয়াটির চরিত্র আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সমালোচনামূলক লেখালেখি বা পলেমিক্যাল রাইটিং এর চর্চা নেই বললেই চলে, তাই যেকোনো সমালোচনামূলক লেখাকে প্রথমেই ধরে নেয়া ব্যক্তি আক্রমন হিসাবে। আমার প্রথম পর্বের লেখাটির ক্ষেত্রেও খানিকটা এমনটাই ঘটেছে। কিন্তু আমি পাঠকের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছি পাঠ পরবর্তী অনুধাবনের জন্যে, আমার লেখায় আদৌ কোনও ব্যক্তি আক্রমন আছে কি না সে বিষয়ে। আপাতত আবারো পুনুরুল্লেখ করতে চাই, ব্যক্তি শাশ্বতী বিপ্লব আমার কাছে মূখ্য নন, কিন্তু তাঁর চিন্তা পদ্ধতি কিভাবে রাষ্ট্রের নিপীড়ন কে জায়েজ করে তুলবার ক্ষেত্রে কাজ করে এবং করেছে সেটাই তুলে ধরাই আমার মূল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রের নিপীড়নকে জায়েজ করার বুদ্ধিবৃত্তিক বাহিনীতে শাশ্বতী বিপ্লব একা নন, বরং এই বাহিনীটি অনেক বড়, এই বাহিনীতে যুক্ত আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভাইস চ্যান্সেলর, সাংবাদিক, এনজিও কর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, সঙ্গীত শিল্পী আরও অনেকেই। এদের চিন্তা পদ্ধতি আমার মূল আগ্রহের বিষয়।   

দুই.

আওয়ামীপন্থী মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবকদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শহিদুল আলম কে দানবায়ন করার মধ্যে দিয়ে তাঁর উপরে চলমান গ্রেফতার ও নির্যাতন কে বৈধতা দেয়া। সেজন্যে লেখালেখির কোনও নীতি নৈতিকতার বালাই না রেখে এরা যাচ্ছেতাই উপায়ে শহিদুল আলমকে ভিলেইন বানানোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের রাজনীতির ইউনিক সেলিং পয়েন্ট বা বিক্রি করার প্রধান বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ কে কেন্দ্র করে একটা নোংরা জাতীয়তাবাদী ভাবধারা গড়ে তুলেছে আওয়ামীলীগ, এই ভাবধারার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভিন্নমতের মানুষদেরকে “মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী” হিসাবে তুলে ধরা। তাই এরা মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনানায়ক একে খন্দকার কে বলেন আইএসআই এর এজেন্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী এখন এদের কাছে রাজাকার। যেনোতেনো প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ন্যূনতম ভিন্নমতকেও এরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দেন। শাশ্বতী বিপ্লবের লেখাটি তার একটি কাঁচা উদাহরণ, যেখানে তাঁর সকল প্রচেষ্টা নিবেদিত হয়েছে শহিদুল আলম কে একজন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানুষ হিসাবে প্রমান করার জন্যে। প্রথম পর্বে শহিদুল আলমের লেখার উৎকট ভাবানুবাদ করে তিনি এক ধরনের গোলমাল  পাকিয়েছিলেন কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে এসে সম্পূর্ণ ভজকট পাকিয়ে ফেলেছেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় মিথ্যাচারের মাধ্যমে কাউকে দানবে পরিনত করতে হলে রাষ্ট্র অনেক আটঘাট বেঁধে নামেন। কিন্তু শাশ্বতীদের কোনও “হোম ওয়ার্ক” দরকার হয়না। বাংলাদেশে রাষ্ট্র অনুগত মিডিয়াসমূহ এতোটাই শক্তিমান যে যেকোনো কিছু লিখে যে কাউকেই দানব বানানো যায় – ভিলেইন বানানো যায়। তাইতো শহিদুল আলম যা বলেন নি তাইই শহিদুলের মুখে বসিয়ে দিয়েছেন শাশ্বতী। পরে তাঁর পাঠকেরা যখন তাঁর দুর্বল ইংরাজী জ্ঞানের বহরের দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছেন, তখন তিনি কোনও রকমের নীতি নৈতিকতার বালাই না রেখে শ্রেফ চেপে গেছেন, ভুল অনুবাদের টেক্সটগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন, একবার ভুলও শিকার করেন নি। আসুন দেখে নেই সেই মজার অংশটুকু।

 

শহিদুল আলম আল-জাজিরা টিভিকে দেয়া তাঁর সাক্ষাতকারের ৩ঃ৩৯ মিনিটে বলেছেন এভাবে – 

“They know if there is a fair and free election, they will lose. But they haven’t got an exit plan. Because they misruled for so long that if they do lose they will be torn apart. So they have to hang on by any means, and that is exactly what they are doing. They are clinging on using the entire might of the system, plus the armed goons are at their disposal.”

 

এর বাংলা অর্থ হয়তো করা যাবে এভাবে –

“তারা জানেন, যদি একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন হয়, তবে তারা হারবেন। এরকমটা হলে এ থেকে উদ্ধার পাবার কোনও রাস্তা সরকারের পরিকল্পনায় নেই। কারণ তারা এতদিন ধরে যে দুঃশাসন চালিয়েছে, এর পরে তারা যদি হেরে যায় তাহলে তারা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের যেকোনো উপায়েই হোক ক্ষমতায় থাকতে হবে এবং ঠিক সেটাই তারা এখন করছেন। তারা রাষ্টের সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে্ন, আর তার পাশাপাশি লাঠিয়াল গুন্ডা বাহিনী তো আছেই।”

 

এবারে আসুন দেখা যাক শাশ্বতী বিপ্লব শহিদুল আলমের এই অংশটুকু কিভাবে লিখেছেন এবং তার অনুবাদ করেছেন। যেহেতু শাশ্বতী কোনও রকমের স্বীকারোক্তি ছাড়াই তাঁর লেখা থেকে এই অংশটুকু বাদ দিয়ে দিয়েছেন, তাই আমি এখানে প্রথমে তাঁর লেখার টেক্সট টুকু জুড়ে দিচ্ছি এবং এর সাথে আমার রেখে দেয়া স্ক্রিনশট জুড়ে দিচ্ছি। তার আগে পাঠক কে বলছি উপরের ইংরাজি অংশে বোল্ড করা দুটি শব্দগুচ্ছের দিকে আরেকবার ভালো করে দেখে নিন।

শাশ্বতী বিপ্লবের লেখা থেকে সরাসরি কোটেশন

 

মিথ্যা – ৩

সবশেষে তিনি বলেছেন

“They know if there is a fair and free election, they will lose. But they haven’t got an exit plan. Because they misruled for so long that if they do lose they will be torn apart. So they have to hang on by  enemies, and that is exactly what they are doing. They are clinging on using the entire might of the system, plus the armed goons are at their disposal.”

 

অর্থাৎ, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় এবং সরকারের কোনও এক্সিট প্ল্যান নেই। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে দুঃশাসন চালিয়েছে এবং যদি তারা হেরে যায় তাহলে তাদেরকে ছিড়ে ফেলা হবে। শত্রুরা তাদের ফাঁসী দেবে ঠিক যেটা তারা এখন করছে।

 

এটাকে হয়তো সরাসরি মিথ্যা কথা বলা যায়না, উনি উনার মনগড়া কথা বলেছেন। শুধু শেষ অংশটা ছাড়া, সেখানে উনি আবারও ভুল ‘পারসেপশন’ দেয়ার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধাপরাধীরা কি আওয়ামীলীগের শত্রু? আওয়ামীলীগের সাথে শত্রুতার কারণে কি তাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে বা হচ্ছে? আপনারা হয়তো বলবেন, কই উনি তো যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলেননি। তবে, উনি কাদের কথা বলছেন, আপনারাই বলুন।

 

শাশ্বতী শহিদুল আলমের বক্তব্যের ভুল ট্রান্সক্রিপ্ট বা অনুলিখন করছেন, এটা তাঁর প্রবন্ধের পাঠকেরাই সেই লেখাটির নীচে মন্তব্য কলামে উল্লেখ করেছেন। বেশ কয়েকজন উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাশ্বতী ব্যাখ্যা করেছেন যে এটা তাঁর শোনার ভুল হয়েছে, তাড়াহুড়া করে লেখাটি শেষ করতে গিয়ে তিনি “any means” কে “enemies” শুনেছেন। আচ্ছা ভালো কথা শোনার ভুল হতেই পারে। শহিদুল আলমের চোস্ত ব্রিটিশ একসেন্ট এর ইংরাজী শাশ্বতীর কাঁচা কান ভুল করতেই পারেন শুনতে। কিন্তু “Hang on” শব্দটির অর্থ কি ফাঁসী দেয়া? “Hang on” এটা একটা  Phrasal verb, যার অর্থ ফাঁসী দেয়া নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। এই ধরনের শব্দগুচ্ছের অর্থ প্রচলিত অর্থে এর প্রথম বা মূল শব্দের অর্থের মতন হয়না। যেমন এখানে “Hang on” এর অর্থ হচ্ছে শক্ত করে ধরে রাখা, বা ধরে রাখা। শাশ্বতী এইলেখাতির একটি ইংরাজী অনুবাদ প্রকাশ করেছেন একই পত্রিকায়। অর্থাৎ তিনি আসলে ইংরাজীতে একটা আস্ত প্রবন্ধ লিখতে পারেন। তাহলে এই ভুল কি করে হলো? অর্থাৎ এই “Hang on” এর বিকৃত অর্থ করা?  এটাও কি ভুল? যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই বলতে হয় শাশ্বতীর ইংরাজির এই করুন দশা নিয়ে তাঁর কি উচিৎ হয়েছে শহিদুল আলমের ইংরাজি টেক্সট এর সমালোচনা করতে যাওয়া? আমার ধারণা এই দুটো বিষয়ের কোনটাই ভুল বা অসতর্কতা নয়। কেননা, গল্পটা শাশ্বতীর মাথাতেই ছিলো, কোনও না কোনও ভাবে এই টেক্সটটিকে আওয়ামীলীগের বিপরীতে এবং জামাত শিবিরের পক্ষের বলে তুলে ধরা যা শহিদুল আলমকে স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষ হিসাবে প্রমান করতে কাজে লাগবে। নইলে শহিদুল আলমের অত্যন্ত যৌক্তিক সমালোচনার সাথে তিনি কেনো ফাঁসীর প্রসঙ্গ আনবেন আর তাঁর সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকেই টেনে আনবেন? তিনি এনেছেন, কেননা আজকের বাংলাদেশে যে নোংরা জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম তৈরী হয়েছে, তাতে যে কাউকে দানবায়ন করার সবচাইতে সহজ রাস্তা হচ্ছে তাঁকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের লোক বানাতে হবে। শাশ্বতী মিথ্যা দিয়ে হলেও সেটাই করতে চেয়েছেন।  

এখন আসা যাক শহিদুল আলমের মূল কথাটির প্রসঙ্গে।  শহিদুল আলমের মোদ্দা কথা তিনটি – 

 

১ – ফেয়ার নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ হারবে 

২ – তারা জানেন নির্বাচনে হেরে গেলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে (ঠিক এখন বিএনপি’র যে অবস্থা) 

৩ – তাই তারা যেনোতেনো প্রকারে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে

 

শহিদুল আলমের এই বক্তব্যের কোন কথাটি মনগড়া? আওয়ামীলীগ কি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপরে ক্রমাগত নিপীড়ন চালায়নি বিগত দশ বছর? আওয়ামীলীগ কি রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে ব্যবহার করেনি ভিন্ন মতকে দমনের জন্যে? প্রতিপক্ষে কে দমনের জন্যে? পুলিশ, র‍্যাব, আর্মি, ডিজিএফআই, ডিবি, আদালত, প্রশাসন কোন অংশটিকে ব্যবহার করতে আওয়ামীলীগ বাদ রেখেছে প্রতিপক্ষের দমনের জন্যে? আওয়ামীলীগের  এই দশ বছরেই কি সবচাইতে বেশী বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটেনি? আওয়ামীলীগের এই দশ বছরেই কি মৌলবাদীদের হামলায় ছাত্র, শিক্ষক, সুফিবাদী সাধক, বাউল, ব্লগার সহ বহু বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষের হত্যাকান্ড ঘটেনি? আওয়ামীলীগের এই দশ বছরে কি অর্থবাজার ও ব্যাংকিং সেক্টরে পাহাড় সমান জালিয়াতি – দুর্নীতি হয়নি? আওয়ামীলীগের এই আমলেই কি হলি-আরটিজান এর মতো ঘটনা ঘটেনি? আওয়ামীলীগের এই আমলে কি দেশ জুড়ে ছাত্রলীগ – যুবলীগের তান্ডব আমরা দেখিনি?

শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে এইভাবে পেটোয়া বাহিনীতে পরিনত করার ফলাফল কখনই ভালো হয়না। বিএনপি-জামাত জোটও একই নিপীড়ন চালিয়েছিলো তৎকালীন আওয়ামীলীগ সহ সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি। এই প্রতিহিংসার রাজনীতি আওয়ামীলীগ চর্চা করেছে আরও বহুগুন বেশী। তাই নির্বাচনের ফলাফল যদি ভিন্ন কিছু হয়, যদি আওয়ামীলীগ কোনও কারণে ক্ষমতায় আসতে না পরে, তাহলে তাঁরাও সেই একই প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হতে পারে। শহিদুল আলম এই আশংকার কথাই বলেছেন। এটা কি মিথ্যা আশংকা? এটা কি মনগড়া আশংকা? এই আশংকার কথা কি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানেন না? এই আশংকার কথা কি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলেন না? ধরুন আওয়ামীলীগের দলীয় সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের তো ঠিক একই কথা বলেছেন চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের এক কর্মীসভায়।তিনি বলেছেন ক্ষমতায় থাকতে না পারলে যা টাকা পয়সা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা কামিয়েছেন সেসব কিছু নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে হবে। বিশ্বাস হচ্ছেন? এই লিংক থেকে দেড় মিনিটের ভিডিওতে দেখে নিন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের কি বলছেন। শহিদুল আলম যা বলেছেন জনাব ওবায়দুল কাদেরও একই কথা বলেছেন, শুধু শহিদুল আলম একটা মতামত যোগ করেছেন তা হচ্ছে, যদি ফেয়ার নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামীলীগ হারবে। এটা কি মনগড়া কথা? এর কি বাস্তব ভিত্তি নেই?যদি বাস্তব ভিত্তি নাইই থাকে তাহলে জনাব ওবায়দুল কাদের কেনো তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এই সাবধান বাণী উচ্চারন করছেন? এখানে দেখে নিতে পারেন

লিংক ১

লিংক ২

 

তিন.

এরপরে আসি, লেখক হিসাবে শাশ্বতী’র নীতিবোধ এবং পত্রিকা হিসাবে বিডিনিউজ২৪ডটকম এর সম্পাদকীয় নীতিবোধ প্রসঙ্গে। শাশ্বতী শহিদুল আলমের কথার ভুল ট্রান্সক্রিপ্ট করেছেন, শহিদুল আলমের বলা টেক্সট এর মারাত্মক ভুল অনুবাদ করেছেন, এবং এই সকল ভুলের উপরে ভিত্তি করে কাল্পনিক অভিযোগ ফেঁদেছেন। সেসব যখন তার পাঠকেরা ধরিয়ে দিয়েছেন, ন্যূনতম ভুল শিকার করাতো দূরের কথা, সবার অজান্তে শ্রেফ সেই অংশটুকু কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এটা কি কোনও ভালো সম্পাদকীয় নীতির পরিচয়? এটা কি সম্পাদনার পেশাদারিত্বের পরিচয়? না এটা চরম অপেশাদারি মোনোভাবের পরিচয়। যেহেতু লেখাটির মূল উদ্দেশ্য শহিদুল আলমকে দানবায়ন করা, তাই লেখক কিম্বা সম্পাদক কেউই দায়বোধ করেননি পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের। দেখুন শাশ্বতীর সেই কেটে বাদ দেয়া অংশটুকু। 

“মিথ্যা ৩” এই অংশটুকু শাশ্বতী কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কোনও রকমের সম্পাদকীয় নীতির তোয়াক্কা করেন নি, ভুল স্বীকার করেন নি, বিনয় প্রকাশ করেননি, তাঁর নিজের ভুল অনুবাদের উপরে ভিত্তি করে এভাবে একজন বরেন্য সম্মানিত মানুষকে ভিত্তিহীন ভাবে অভিযুক্ত করার জন্যে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন নি।

শাশ্বতীর এই ভুল অনুলিখন আর দুর্বল অনুবাদের কথা উল্লেখ করে তাঁর সেই লেখাতেই পাঠকেরা মন্তব্য করেছেন। তাঁকে শোধরানোর পরামর্শ দিয়েছেন।  দেখুন তার একটি নমুনা। 

এই পাঠকের মতো বেশ কয়েকজন শাশ্বতীর অনুলিখনের ও অনুবাদের এই ভয়াবহ ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু লেখক তাঁদের কোনও উত্তর দেননি, ভুলও স্বীকার করেন নি। কেবল গোপনে সেই অংশটুকু বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

চার. 

পাঠকের অলক্ষ্যে একটি ভুলের উপরে ভিত্তি করে লেখা অভিযোগটি বাদ দেবার পরে তার লেখার আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে এই রকমের –

শাশ্বতী বিপ্লবের লেখা থেকে সরাসরি কোটেশন

 

মিথ্যা-২

তারপর তিনি হঠাৎ করেই কোটা আন্দোলনকে টেনে এনে বলেছেন-

… the quota system is rigged in such a way that only people close to party in power get to get government jobs and there is a disproportionate amount of jobs going to them.

অর্থাৎ কোটা সিস্টেমকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দলের কাছের লোকেরাই শুধু সরকারি চাকরি পায় এবং অসামঞ্জস্য পরিমান চাকরি তাদের ভাগে জোটে। কী ভয়ঙ্কর মিথ্যা! এমনকি কোটা সংস্কার বা বাতিলের দাবিদাররাও এতোটা মিথ্যা বলতে দ্বিধা করবে

 

শাশ্বতী দাবী করছেন এটা একটা ভয়ংকর মিথ্যা কথা বলেছেন শহিদুল আলম। কিন্তু শাশ্বতীর দাবীর স্বপক্ষে কোনও প্রমান আছে? দেশে পিয়ন-চাপরাশি থেকে শুরু করে সরবোচ্চ পর্যায়ের নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগটি, তা কি আজকেই নতুন? শহিদুল আলম কি আওয়ামীলীগকেই শুধু ইঙ্গিত করেছেন নাকি ক্ষমতাসীন দলকে ইঙ্গিত করেছেন? কোটাতো বটেই, চাকুরীর সকল ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি, টাকার লেন-দেন এসব কি মিথ্যা কথা? যদি মিথ্যা হয় তাহলে শাশ্বতী প্রমান হাজির করছেন না কেনো? শাশ্বতী প্রমান হাজির করেননি, কেবল গায়ের জোরেই শহিদুল আলমকে চিহ্নিত করছেন মিথ্যাবাদী হিসাবে। শাশ্বতী সেটা পারেন, কারণ তাঁর স্বপক্ষে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র প্রনোদিত মিডিয়া রয়েছে।

শাশ্বতী যে পত্রিকায় এই লেখাটি প্রকাশ করেছেন,  সেই একই পত্রিকা বিডিনিউজ২৪ডটকম এ কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে আরেকজন লেখকের একটি লেখা দেখতে পারি। আমেরিকার ভারজিনিয়া প্রবাসী শিক্ষক সাইদ ইফতেখার আহমেদ  ২০১৮ সালের ০২ মে একটি মতামত প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তখনও শহিদুল আলম গ্রেফতার হননি। এই দীর্ঘ প্রবন্ধটিতে তিনি খুব পদ্ধতিগত ভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ গুলো তুলে ধরেছেন। এক পর্যায়ে তিনি লিখছেন এভাবে –

 

কোন সন্দেহ নেই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান/দৌহিত্রদের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ কোটা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির সুযোগ রয়েছে, বিশেষত যেখানে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট অনেকের কাছেই রয়েছে। এছাড়া পৃথিবীর আর কোন দেশ সেদেশের মুক্তি সংগ্রামীদের দৌহিত্রদের সরকারী বা বেসরকারী চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধা দেয় বলে আমার জানা নেই। কোন সন্দেহ নেই কোটা ব্যবস্থার এ অংশটি নিঃসন্দেহে সংস্কার করতে হবে”

লিংক এখানে 

 

তাহলে অন্তত বোঝা যাচ্ছে যে এই মুক্তিযুদ্ধ কোটা নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ রয়েছে।  এখন বলুন তো এই যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে দুর্নীতি – স্বজনপ্রীতি ঘটে সেটা কারা করে, ক্ষমতাসীন দল নাকি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী দল? এমন কি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কেনো প্রতিটি সরকারের আমলে বৃদ্ধি পায়? বাংলাদেশে কেনো আজ পর্যন্ত পাঁচবার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগাদ করতে হয়েছে? কেনো প্রত্যেকবারই এই সংখ্যাটি বৃদ্ধি পাচ্ছে? বস্তুত, দেশের বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার একটা বিরাট অংশ “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা”। এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি কি মনগড়া? খোদ আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী স্বীকার করেছেন –

 

“বিএনপি সরকারের সময় ৪৪ হাজার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় (২০০৯-২০১৪) তালিকাভুক্ত হওয়া সাড়ে ১১ হাজারের বেশির ভাগই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও লাল মুক্তিবার্তায় অনেকের নাম রয়েছে। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সই স্ক্যান করে সনদ জাল করেছেন। কেউ কেউ জেনারেল এম এ জি ওসমানীর খোদাই করা (এমবোস) স্বাক্ষর জাল করেছেন। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা কমান্ডারের সই জাল করে বা যাচাই-বাছাই না করে সনদ দেওয়ার অনেক অভিযোগ এসেছে”।

লিংক এখানে  

 

কিন্তু এরা কেনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নেন? কেনো সচিব কিম্বা পুলিশের বড় কর্মকর্তারাও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিতে যান? এই আওয়ামীলীগের আমলেই পাঁচজন সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলো দুদক, এবং শুধু বাতিলই নয়, এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবারো পরামর্শ দিয়েছিলো (লিংক এখানে )। বাস্তবত, এরা কেবল সরকারী প্রতিশ্রুত সুবিধাসমূহ নেবার জন্যেই দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করার মধ্যে দিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা” সনদ হাতিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, কেবলমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সনদকে ঘিরেই চলছে হাজার কোটি টাকার বানিজ্য। এই বানিজ্যে কারা করছেন? কেনো করছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে শহিদুল আলমের অভিযোগটিকে একটি দগদগে বাস্তবতা ছাড়া আর কিছুই মনে হবেনা। কিন্তু শাশ্বতীর মতো রাষ্ট্র প্রনোদিত লেখকদের সেই সময় নেই এই গভীরতায় আলোচনাটিকে এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবার। তারচাইতে সহজ কেবল “ভয়ংকর মিথ্যা” বলে কাউকে দানবায়ন করা। 

লেখক শাশ্বতীবিপ্লব সবশেষে উল্লেখ করছেন, শহিদুল আলমের গ্রেফতারের পরে তাঁর উপরে চলা নির্যাতনের প্রসঙ্গে। আসুন তাঁর লেখা থেকেই দেখি সরাসরি –

শাশ্বতী বিপ্লবের লেখা থেকে সরাসরি কোটেশন

 

মিথ্যা-৩

এবার শহিদুল আলমকে আটক প্রসঙ্গ। উনাকে খুবই বাজেভাবে, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা সবাই দেখেছি। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, তিনি যত অন্যায়ই করুন না কেন, এভাবে কাউকে আটক করা অন্যায়। কিন্তু তারপরের ঘটনা প্রবাহ যদি দেখি, তবে আমরা দেখতে পাই উনাকে আটকাবস্থায় নির্যাতন করার গল্প। এমন কি আমরা এও জানতে পারি, উনাকে রক্তাক্ত করে সেই রক্তমাখা পাঞ্জাবি ধুয়ে আবার তাকে পরতে দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাকে অতিসত্বর হাসপাতালে নেয়ার আদেশ দেন। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পর মেডিকেল বোর্ড কোনও নির্যাতনের চিহ্ন কেন খুঁজে পেলো না? ইতোমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় আবার হাসপাতালের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হতে দেখি আমরা।

 

(লিংক: https://www.facebook.com/banglanewspost/videos/1028061994065353/)

 

যেখানে হাসপাতালের কড়িডোরে তাকে ডিবি পুলিশের দুজন কর্মকর্তার সাথে হাসতে হাসতে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে দেখা যায় এবং তারপরই আবার আমরা যখন টিভি ক্যামেরার সামনে তাকে দেখি, তখন তাকে স্ত্রীর কাঁধে ভর দিয়ে অসুস্থতার ভান করতে। এসব গুণি ও মানি মানুষের এসব মিথ্যা অভিনয় সত্যিই আশ্চর্যের!

 

অর্থাৎ শাশ্বতী পরিস্কার ভাবে বলছেন – ডিবি অফিসে শহিদুল আলমের উপরে আসলে কোনও নিপীড়ন হয়নি। কারণ ডাক্তাররা তাঁকে পরীক্ষা করে কোনও কিছু পাননি, এমন কি তিনি স্বাভাবিক ভাবেই হাসতে হাসতে হাটছিলেন, কেবল ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সময়েই তিনি “ভান” করছিলেন।

এই প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে আমার বলার কিছু নেই। কেননা মানুষের মানবিক সংবেদনশীলতার কোনও মানদন্ড নেই। বাংলাদেশে বড় হয়ে ওঠা একজন শাশ্বতী বিপ্লব যদি বিশ্বাস করেন যে ডিবি বা র‍্যাব বা পুলিশ কাউকে রাতের আধারে ধরে নিয়ে গিয়ে কোনও নিবর্তনমূলক আচরণ করেনি, তাহলে সেক্ষেত্রে তাঁর সাথে বিতর্ক না করাই ভালো। শহিদুল আলমকে সারারাত নির্ঘুম রাখা, তাঁকে কিল-ঘুষি মারা, নাক ফাটিয়ে দেয়া, তাঁর স্ত্রীর নামে অকথ্য গালিগালাজ করা, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়ার হুমকী দেয়া এসব একজন আওয়ামী বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষের কাছে কোনও নির্যাতন মনে নাও হতে পারে। যে দেশে রাষ্ট্রের ভয়ে ধর্ষিতার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বদলে যায়, যে দেশে নিহতের ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ভিক্টিমের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের উপরে ভিত্তি করে, সেই দেশের মেডিক্যালবোর্ড এর প্রতি শাশ্বতী বিপ্লবের এই অগাধ আস্থাই প্রমান করে, অন্তত এই ইস্যুতে তাঁর সাথে বিতর্কের কোনও অর্থ নেই। 

বাস্তব সত্য হচ্ছে, পিজি হাসপাতালের সেই মেডিক্যাল বোর্ড শহিদুল আলমের শারীরিক আঘাতের বিষয়টি পরীক্ষাই করেনি। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনও পরীক্ষাই করেনি। এমন কি আদালত নির্দেশ দেবার পরেও। মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর রোগ-বালাই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, শারীরিক আঘাত নিয়ে নয়। আদালতের দ্বিতীয়বার নির্দেশ সত্ত্বেও তারা এই বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন। এ বিষয়ে শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন গনমাধ্যমের কাছে, আগ্রহী পাঠকেরা শুনে নিতে পারেন। 

সবশেষ কথা

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা যখন সারাদেশে প্রাণপণে রুখে দিচ্ছে পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী আর তাঁদের এদেশিয় দালালদের, সেই সময় রাষ্ট্রীয় পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান পাচ-কলাম জুড়ে শিরোনাম করেছিলো “পরিস্থিতি সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রয়েছে”। কিম্বা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে, তাঁর লাশ তখনও ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের সিড়িতে পড়ে রয়েছে, সেই সময় দেশের প্রধান একটি পত্রিকা বাংলাদেশ অবজারভার তাদের একটি উপশিরোনাম করেছিলো এই ভাবে – “Mujib Killed, situation remains calm”। ইত্তেফাক সম্পাদকীয় লিখেছিলো এই শিরোনামে – “ঐতিহাসিক নবযাত্রা”। বাঙ্গালী কি রাষ্ট্র প্রনোদিত এই সকল প্রচারনাকে সত্যি বলে বিশ্বাস করেছিলো সেদিন ? শাশ্বতী কি বিশ্বাস করেন মুজিবকে হত্যা করার পরে বাঙালী জাতি সত্যিই ঐতিহাসিক নবযাত্রা শুরু করেছিলো? করেনি, যদি করতো, তাহলে বাংলাদেশ আজও সামরিক শাসনের যাঁতাকলে বাঁধা থাকতো।  

 

শুধু শহিদুল আলম নয়, সকল আটক মানুষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যে সকল অভিযোগ, যে সকল অভিযোগ রাষ্ট্রের হয়ে তাঁর মিডিয়া গুলো প্রচার করছে, রাষ্ট্র প্রনোদিত বুদ্ধিজীবীরা প্রচার করছেন, সেসবও জনগন বিশ্বাস করেনা। তাইতো লড়াই চলছে এখনও। শহিদুল আলমের মুক্তির লড়াই আদালতে যেমন চলবে, রাজপথেও চলবে। রাষ্ট্র, তাঁর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়, কিন্তু লড়াই চলছে। চলবে।

শহিদুল আলম সহ নিপীড়নমূলক ভাবে আটক সকল বন্দীর মুক্তি চাই। মতা প্রকাশের বিরুদ্ধে সকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা চলবে। কলম চলবে। 

 

Spread the love