(পাঠকের জন্যে নোটঃ এই লেখায় মূল লেখকের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সাধারণ ইরাকীর নাম – ছদ্মনাম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইংরাজি বর্ণ অনুযায়ী তাদের কে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাসঙ্গিক ছবি গুলো অনুবাদকের সংযোজন )

রবিবার, আগস্ট ২৪, ২০০৩

আমার নিজের প্রসঙ্গে ……
আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমার লেখার চাইতে আমার সম্পর্কে কৌতুহলী হয়ে উঠছেন। অনেকেই জিজ্ঞাসা আমার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, কেনও আমার ইংরেজী এতো ভালো সেটাও জিজ্ঞাসা করেছেন অনেকে। আমি একজন ইরাকী, আমার বাবা-মা ইরাকী, আমি এখানেই জন্মেছি। আমি ইরাকে জন্মেছি কিন্তু আমি বেশ কয়েক বছর বড় হয়েছি দেশের বাইরে। ইরাকে ফিরে এসেও আমি ইংরাজি মিডিয়ামেই আমার পড়াশুনা চালিয়ে যাই। এখানে ইংরাজী মিডিয়ামে পড়ার কারণে, আমার বেশীর ভাগ বন্ধুই বিভিন্ন দেশের, জাতিয়তার এবং ধর্মের। আমি দুটি ভাষাই ভালো জানি। এই সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ে শুধু আমি একাই আছি এখানে তা নয়। আরো হাজার হাজার শিশু এই ইরাকে বড় হয়ে উঠেছে। কুটনিতিবিদ, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের সন্তানেরা আমার মতোই।

যারা জানতে চেয়েছেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি সম্পর্কে এতো জানাশোনা কিভাবে হলো? তাদের কিভাবে বোঝাবো যে ইরাকের হাজার হাজার তরুন-তরুনী আছে যারা আমেরিকান – ব্রিটিশ কিম্বা ফরাসী জনপ্রিয় সংস্কৃতি বা পপ কালচার সম্পর্কে অনেক বেশি খোঁজখবর রাখে। এই সকল তরুন – তরুনীদের অনেকেই আর্নল্ড শোয়ারজনেগার, ব্র্যাড পীট, হুইটনী হিউস্টন … কিম্বা ম্যাকডনাল্ডস এর সাম্প্রতিক্তম খবর গুলোও রাখে। ইরাকী টিভি স্টেশন গুলো সারাক্ষন হলিউডের লেটেস্ট ছবিগুলোর খুব বাজে প্রিন্ট সম্প্রচার করে যাচ্ছে। আমেরিকান সৈনিকরা এখানে আসার পূর্ব পর্যন্ত – র‍্যাম্বো আর টারমিনেটর এর বেশ ভালোই সুনাম ছিলো।

এই হলো আমার ব্যাকগ্রাউন্ড, যাই হোক, এর বেশি আর কিছুই বলবোনা। আমি আমার লেখার ক্ষেত্রে অজ্ঞাতনামা হিসাবেই থাকতে চাই।

কাজের বিনিময়ে খাদ্য ……
ইরাকে এখন ৬৫% এর উপরে বেকারত্ব। এই আকাশ-চুম্বী বেকারত্বের মূল কারণ এখানে বুশ প্রশাসনের প্রতিনিধি মিস্টার ব্রেইমার বেশ কিছু মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম বড় যে ভুল সিদ্ধান্তটি তিনি নিয়েছেন তা হলো, ইরাকী সেনাবাহিনী কে অবলুপ্ত ঘোষণা করা। ওয়াশিংটনে এই সিদ্ধান্তের হয়তো কোনও বিরাট অর্থ আছে, কিন্তু এখানে ইরাকে এই সিদ্ধান্তের পরিনতি ভয়াবহ। এই সিদ্ধান্ত ইরাকীদেরকে স্তব্ধ – হতবিহবল করে দিয়েছিলো। এক দফায় প্রায় চার লক্ষ সুদক্ষ- সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষিত সৈনিক বেকার হয়ে গেলো। রাতারাতি তাদের চাকুরী “নাই” হয়ে গেলো। এরা কি করবে? কোথায় যাবে? আর এদের পরিবারকেই বা কি খাওয়াবে? পরিবারের পেটের ভাত আর ভরণপোষণের জন্যে এরা কি করবে? কি করা উচিৎ এদের? কেউ কিচ্ছু জানেনা।

এক সময়ের কর্মঠ মানুষেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলো কাজের জন্যে, কিন্তু কোথাও কোনও উত্তর নেই। এই সকল মানুষের চেহারায়, ব্যবহারে, হাটায়-চলায় হতাশা, ক্রোধ, বিরক্তি সুস্পষ্ট। এরা বিভিন্ন মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকে, বিভিন্ন জনকে প্রশ্ন করে, কোনও উত্তর নেই। এরা এমন কি জানেও না কাকে জিজ্ঞাসা করলে এই বিশাল হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণ জানা যাবে। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, মার্কিন প্রশাসন ইরাকের তথ্য মন্ত্রনালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় দুটোই বাতিল করে দিয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে সকল কার্যক্রম, বাতিল হয়ে গেছে সকল চাকুরী। কারণ যাই হোক না কেনও, এই দুটি মন্ত্রনালয়ে কাজ করতো হাজার হাজার ইরাকী সাধারণ সিভিলিয়ান মানুষেরা। খুবই সাধারণ পদে চাকুরী করতো এরা – একাউন্টেন্ট, সেক্রেটারী, পিয়ন, প্রকৌশলী, ম্যানেজার, টেলিফোন অপারেটর, নৈশ প্রহরী ইত্যাদি। এরা সবাই এখন বেকার। বিনা নোটিশে রাতারাতি এই হাজার হাজার সাধারণ সিভিলিয়ান বেকার হয়ে রাস্তায় বসে পড়তে বাধ্য হলো। প্রাইভেট কোম্পানী গুলোকে নির্দেশ দেয়া হলো – ছাটাই করার জন্যে। এই সকল মানুষের সাথে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক ছিলোনা। আমার চাচা যে প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করতো, সেখানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কর্মী ছাটাই করার জন্যে। এই ছাটাই হওয়া কর্মীদের মাঝে আছে – ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার, স্থাপত্যবিদ, ঠিকাদার, মেকানিক, ম্যানেজার সহ আরো নানান ধরনের মানুষ। মাঝারী ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, লুটতরাজ, বোমাবাজি আর আতংকের কারণে। এই হচ্ছে বাস্তব পরিস্থিতি এবং এই রকম অবস্থায় মানুষ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে?

যাদের চাকুরী আছে তাদের জন্যেও এ এক দুর্বিষহ জীবন। যেখানে একজন মানুষের পক্ষেই চলা সম্ভব নয়, সেখানে পরিবার প্রতি দেয়া হচ্ছে মাসিক ৫০ ডলার। যেনো এটাই স্বর্গীয়। অন্তত এদের চাকুরী আছে, এরা বেকার নয়। অন্তত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটা উপলক্ষ্য আছে এদের, সেটাই যেনো অনেক বড় পাওয়া।

আমাকে কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, কেনও হাজার হাজার ইরাকী পুরুষ খালি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? কেনও এরা কাজের সন্ধানে বাইরে যাচ্ছেনা? কেনও এরা কাজের চেস্টা করছে না? বাস্তবতা হচ্ছে – আমেরিকা যখন ইরাক দখল করে নিলো, তার পরের সপ্তাহ থেকেই হাজার হাজার ইরাকী লাইনে দাঁড়িয়ে চাকুরীর দরখাস্ত করেছে, নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে চাকুরীর আবেদন করেছে, কিন্তু কোথাও কোনও চাকুরী নেই। ইরাকী পুলিশে চাকুরী আছে কিন্তু ইরাকী পুলিশে চাকুরী করা আর নিজে আক্রান্ত হওয়া একই কথা, কেননা, আমেরিকান রা ইরাকী পুলিশ বাহিনী কে একটি নিরস্ত্র বাহিনীতে পরিনত করেছে। পুলিশের পোশাক আছে কিন্তু অস্ত্র নেই, ফলে বিভিন্ন এলাকায় যেসব লুটতরাজ, হাইজ্যাক – রাহাজানি, বোমাবাজি বা আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে, সেসব প্রতিহত করতে গিয়ে নিরস্ত্র পুলিশেরা মার খাচ্ছে, আহত নিহত হচ্ছে। তাই পুলিশের চাকুরীতে নিজের নিরাপত্তার জন্যেই কেউ যাচ্ছেনা।

বেকার ইরাকী পুরুষদের একটি দল রাস্তায় বসে আছে কাজের আশায়। শিক্ষিত – অশিক্ষিত – দক্ষ – অদক্ষ সবাই এখন রাস্তায় কাজের সন্ধানে

আমার চাকুরী চলে যাবার গল্পটাও আলাদা কিছু নয়। সেই একই গল্প, খুবই বিষন্ন, দুর্বহ কিন্তু একই, আর সবার মতোই। আমি পড়াশুনা করেছি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে। যুদ্ধের আগে আমি একটি ড্যাটাবেইজ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীতে কাজ করতাম। আমার পদ ছিলো প্রোগ্রামার এন্ড নেটওয়ারক এডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে। প্রতিদিন সকালে আমি সিঁড়ি ভেঙ্গে আমার অফিসের তিন তলায় ছোট রুমটাতে বসতাম। রুমটা আমি আমার নারী সহকর্মী ও দুই পুরুষ সহকর্মীর সাথে শেয়ার করতাম। কম্পিউটার চালু করার পর থেকে সারাদিন ছোট ছোট বর্ণ, সংখ্যা, কোড নিয়েই আমার সময় কেতে যেতো, ক্লান্তিকর কোনও সন্দেহ নেই, তবুও আমি আমার কাজ কে উপভোগ করতাম। মাঝে মাঝে যখন একটা বিরতির দরকার হতো, তখন হয় বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করা নয়তো আমাদের অসম্ভব বস কে নয়ে কলিগদের সাথে ঠাট্টা – তামাশা করা কিম্বা কোনও ভয়াবহ “ডেড-লাইন” আলোচনা করে কাটাতাম।

আমি সত্যিই আমার চাকুরীটা ভালোবাসতাম। কর্মস্থলে আমার পারফরম্যান্স ও ভালো ছিলো। সকাল আটটায় প্রতিদিন আমার ব্যাগপ্যাকে অসংখ্য সিডি, ফ্লপি, নোটবই, কলম – পেন্সিল আর কিছু স্টেশনারী নিয়ে, বেচারা বিল-গেটস কে মনে করতে করতে অফিসে যেতাম। আমি আমার পার্শ্ববর্তী দুজন পুরুষ কলিগের চাইতে বেশি আয় রোজগার করতাম। আমার ম্যানেজার আমাকে যথেষ্ট সমীহ করতো কারণ আমার তুলনায় বেচারার প্রোগ্রামিং জ্ঞান প্রায় শুন্যের কাছাকাছি। তাই যখনই প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন বা সমস্যার উত্তর জানা দরকার হতো, তাঁকে আমার কাছেই আসতে হতো।

এই কথাগুলো লিখলাম এজন্যে যে, আমাদের সম্পর্কে জা কিছুই রটানো হোক না কেনও, আমি জানি ইরাকী নারীরা আরবের অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের – সমাজের নারীদের চাইতে অনেক ভালোও অবস্থানে ছিলো। এমন কি কোনও পশ্চিমা দেশের চাইতেও কোনও কোনও দিক থেকে আমরা ভালো ছিলাম। ইরাকে অন্তত দক্ষ নারী কর্মীরা পুরুষের সমান বেতন পেতো, যা এখনও অনেক পশ্চিমা দেশে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ডাক্তার, উকিল, নার্স, স্কুলের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন সহ সিনিয়র পদ গুলোতে, ইঞ্জিনিয়ার, আরকিটেক্ট এমন কি কম্পিউটার প্রোগ্রামার এই সকল পেশাতেই নারী অংশগ্রহন প্রায় ৫০% এ উন্নীত হয়েছিলো। অফিসের সময়সুচীর বিষয়ে খুব বেশি বাধা-ধরা ছিলোনা এবং সেই অর্থে ফর্মাল পোশাকেরও তেমন বাধ্যবাধকতা ছিলোনা। আমাদের সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যেই আমরা আমাদের নিজেদের ইচ্ছা মাফিক পোশাক পরে অফিসে যেতে পারতাম।

যুদ্ধের পরে, জুন মাসের দিকে শুনলাম, আমার কোম্পানী আবার শুরু করতে যাচ্ছে কাজকর্ম। আমি কি কাজে যোগদান করবো? সেটা আরেকটা পারিবারিক যুদ্ধের মতো। ঘন্টার পর ঘন্টা পারিবারিক মিটিং করে, অবশেষে আমি সবাই কে বোঝাতে পারলাম যে আমার মানসিক সুস্থতার জন্যেই আমার আবার কাজে যোগদান করা দরকার। কিন্তু না, আমার পরিবারের মানুষেরা বিশয়টা এতোটা সোজা্সাপ্টা মেনে নিলোনা, তাঁরা বরং পরামর্শ দিলো, প্রথম দিন আমি আমার অফিসে যেতে পারি (অবশ্যই দুজন পুরুষ সঙ্গী সহ যেতে হবে) খোঁজ নেয়ার জন্যে যদি এমন কোনও কাজ থাকে যা আমি বাসায় নিয়ে আস্তে পারি এবং কাজ শেষ করে আবার অনলাইনে জমা দিতে পারি। যদি এমন কাজ থাকে, তাহলে আমি করতে পারি।

জুন মাসের এক শুভদিনে, আমি আবার আমার পুরনো সেই ব্যাগ গুছিয়ে, মোটামুটি লম্বা ঢিলে ঢালা পোশাক পরে, ভালো করে চুল বেঁধে অবশেষে অফিসের দিকে পা ফেললষেশেয়াম্রা আমাদের গাড়ীটি পার্ক করেছিলাম অফিস থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে, কেননা অফিসের সামনের মূল রাস্তাটা যুদ্ধে ব্যবহৃত অসংখ্য ট্যাংকের যাতায়াতের কারণে প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলো, সেখানে পার্ক করার কোনও উপায় ছিলোনা। আমি খানিকটা দৌড়ে খানিকটা লাফিয়ে প্রায় অফিসের দরোজার কাছে পৌছে গেলাম। আমি আমার ভেতরের উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম, পুরনো অফিসের পরিবেশ, পুরনো সহকর্মীদের কাউকে কাউকে দেখার উত্তেজনা, কে কেমন আছে, কেমন দেখবো ইত্যাদী ভাবনা আমার ভেতরে জট পাকিয়ে যাচ্ছিলো।

কিন্তু যে অফিসটাতে ঢুকলাম, তা কিছুতেই আমার আগের অফিস বলে মনে হলোনা। সব কিছুই দারুন ধূসর, বিষন্ন। মেরুন কারপেট টা এতোটাই মলিন, অগোছালো ও নোংরা হয়েছিলো যে মনে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ মনে হয় এই কারপেট টির উপর দিয়ে দলাই মাড়াই করে হেতে গেছে। যুদ্ধের আগের খুব স্টাইলিশ জানালা গুলো আর আগের মতো নেই, প্রায় ভাঙ্গাচোরা অবস্থা, আসবাবপত্র গুলোও এদিক ওদিক উলটে পড়ে আছে এখনও, দরোজায় অনেক লাত্থির ছাপ, দেয়াল থেকে ঘড়িগুলো মেঝেতে পড়ে গেছে… মোটের উপরে এক গা ছমছম করা পরিবেশ।

আমি অনেকক্ষণ দরোজার কাছে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক গুলো নতুন মুখ ছিলো অফিসে। সবারই মুখ চোখে আতংক, কেউ কাউকে না চিনলেও, সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে সম্ভবত পরিস্থিতিটা বোঝার চেস্টা করছিলো। দিনের শুরু হলেও, সবারই চোখে মুখেই ক্লান্তি ও এক রকমের বিধ্বস্ত ভাব। চারপাশে আমিই একমাত্র মহিলা ছিলাম। আমি এই বিষন্নতার মধ্যে দিয়েই উপরে উঠে যাবার চেস্টা করলাম, মাঝখানে, দোতলায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তারা বসতেন, সেখানে খানিকক্ষণ দাঁড়ালাম। পুরুষ কন্ঠের আলোচনা শুনতে পারলাম। যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা। শুনতে পেলাম, আমাদের বসের মৃত্যুর পরে অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা উঠে পড়ে লেগেছিলো সেই শুন্যতা পুরনের জন্যে। সবাই নিজেকে যোগ্য প্রমানের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিলো, কেউ চাকুরীর অভিজ্ঞতায়, কেউ বিদ্যা-বুদ্ধিতে আবার কেউবা সেই সময়কার ক্ষমতাবান মানুষদের ক্ষমতায় যোগ্য হয়ে উঠেছিলো।

আমি তবুও উপরে উঠে যাচ্ছি, এই ভবনটিতে প্রায় দুইমাস কোনও বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলোনা, এই গরমের মধ্যেও আমার শরীর হীম হয়ে আসছিলো। য়ামার ছোট রুম টিতে পোছে দেখলাম, এটাও ভবনের অন্যান্য অংশের মতোই অবস্থা। আমাদের ডেস্কগুলো নেই, কাগজ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কিন্তু এর মাঝে আমার কলিগ “ওয়াই” কে দেখলাম। আমি ভাবতেই পারিনি শেষ পর্যন্ত আমার চেনা কোনও মানুষ কে পাবো এখানে। আমাকে দেখেও না দেখার ভান করার মতো কিছু একটা করলো। শেষমেশ আমাকে দেখে, অভিনন্দন জানালো, এখনও বেঁচে আছি বলে। “ওয়াই” আমার পরিবারের বাকী সকলের খবরাখবর নিলো। ও জানালো, ও আজকের পরে আর আসবেনা, আমাকেও বলল বরং বাসায় ফিরে গিয়ে, নিরাপদে থাকার জন্যে।

(চলবে)

Spread the love