১,
ঈশ্বর ও ধর্ম প্রসঙ্গে “মার্ক্সবাদী অবস্থান” নিয়ে বাংলাদেশের বামপন্থীদের অবস্থান কে সাম্প্রতিক সময়ে একজন লেখক (আপাতত ধরা যাক, এই লেখকের নাম “মিঃ এক্স”) এভাবে উল্লেখ করেছেন।

“ধর্ম ও নাস্তিকতা নিয়ে বাংলাদেশে বামপন্থীদের যে অবস্থান তা মোটেই মার্ক্স লেনিনের ধ্রুপদি মার্ক্সবাদের সাথে যায়না। মার্ক্সবাদ লেনিন বাদ কোন নাস্তিক্যবাদের নাম নয়। মার্ক্স লেনিন নাস্তিক্যবাদ প্রচার ও করেননি। কমিউনিস্ট হওয়ার জন্য নাস্তিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিতান্ত ধার্মিক মানুষ ও কমিউনিস্ট হতে পারেন।”

এই সারসংক্ষেপ টি লেখক “মিঃ এক্স” উল্লেখ করেছেন তাঁর লেখার প্রথম প্যারাতেই আর তারপরে মোট তেরো পর্ব খরচ করেছেন তাঁর এই সার সংক্ষেপ কে প্রমাণ করবার জন্যে। লেখাটির ধরন হচ্ছে তিনি আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি প্রমাণ করবেন, তারপরে শব্দ খরচ করেছেন তা প্রমাণ করবার জন্যে। এই ব্লগপোস্টে “মিঃ এক্স” এর এই সারাংশ ও তাঁর লেখার আরো কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা করা হবে, তবে তাঁর আগে খোদ মার্ক্স – এঙ্গেলস – লেনিনের লেখালেখি থেকে খানিকটা বোঝার চেষ্টা করবো প্রসঙ্গটিকে।

২,
আমি বর্তমান রচনাটিতে, শুরুতেই কোনও সার সংক্ষেপ করতে চাইনা এবং চাইনি। কারণ আমি আসলেই আবারো খতিয়ে দেখতে চেয়েছি, ঈশ্বর, ধর্ম ও নাস্তিকতা প্রসঙ্গে মার্ক্স – এঙ্গেলস – লেনিনের মতামত গুলোকে। সৌভাগ্য বশত ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্স – এঙ্গেলস এর সকল লেখা (কিম্বা যে সকল লেখায় সামান্য হলেও ধর্ম প্রসঙ্গ এসেছে সেই সমস্ত অংশ) নিয়ে একটি সংকলন বাজারে পাওয়া যায়, On Religion শিরোনামে। প্রায় চারশো পাতার এই বইটিতে মার্ক্সের পিএইচডি থিসিস থেকে শুরু করে, পত্রিকার কলাম, চিঠিপত্র, বড়ো জার্নাল আর্টিকেল সবই আছে। একাধিক গবেষক, ধর্ম প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্সের চিন্তার উপরে বড়ো রচনা এমন কি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অভিসন্দর্ভ লিখেছেন, যেখানে কার্ল মার্ক্সের ধর্ম বিষয়ক সকল লেখার ক্রনলজিক্যাল রিভিউ বা সাল অনুযায়ী পর্যালোচনা পাওয়া যায় । মার্ক্স পরবর্তী একাধিক গবেষণায় পাওয়া যায়, ধর্ম প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্সের লেখালেখিগুলোর বেশিরভাগই ১৮৪১ সাল থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত । অর্থাৎ Early writings বা শুরুর দিকের লেখালেখিগুলোতেই মার্ক্স ধর্মের প্রসঙ্গটির ফয়সালা করেছেন। সুতরাং সাম্প্রতিক সময়ে যে সকল ঘোষিত – অঘোষিত – স্বঘোষিত মার্ক্সবাদী পণ্ডিতগণ ঈশ্বর ও ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সের মতামতকে খোঁজার জন্যে ১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত “কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার” পুস্তিকা দিয়ে শুরু করেন, তাঁরা শুধু নিজেরাই একটি ভুল পথে হাঁটেন না, অন্যদেরকেও সেই ভুল পথে হাঁটিয়ে নিয়ে যান। কারণ, মার্ক্সের ১৮৪৬ পরবর্তী লেখালেখি ক্রমশই গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ের দিকে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে, ধর্ম ও দর্শনের আলোচনা ক্রমশই কমে আসতে থাকে। যদিও কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারেও সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, কমিউনিজমে ধর্ম ও প্রথাগত নৈতিকতার সমূল উচ্ছেদের কথা, যদিও পরিনত মার্ক্স বিভিন্ন সময়ে দেখিয়েছেন চার্চ কিভাবে শ্রমিক শ্রেনীর সংগ্রামের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবুও ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সের বড়ো কাজ গুলো পাওয়া যায় ১৮৪১ সাল থেকে ১৮৪৬ সালের মধ্যে। মার্ক্সের এসকল টেক্সট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো নীচে।


ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সের চিন্তার একটা বড়ো অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজর ব্রুনো বাউয়ার এবং তাঁর আরেকজন পূর্বসূরী ফয়েরবাখ এর লেখালেখির প্রভাব। ধর্ম প্রসঙ্গে কান্ট এর চিন্তাও মার্ক্সকে প্রভাবিত করেছে।

মার্ক্স তাঁর পিএইচডি থিসিস লেখা শেষ করেন ও জমা দেন ১৮৪১ সালে। এপিকিউরিয় দর্শন ও ডেমোক্রিটাস এর প্রকৃতি দর্শনের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে লেখা এই থিসিসে প্রাসঙ্গিক ভাবে মার্ক্স ইপিকিউরাসের প্রকৃতি বিষয়ক দর্শনের নাস্তিক্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি কে সমর্থন করেন। থিসিসের পরিশিস্ট অংশে এপিকিউরিয়াসের ধর্মতত্বের বিরুদ্ধে প্লুটার্কের তর্কের পর্যালেচনায় মার্ক্স খুব সহজ সরল উদাহরণ দিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার ব্যাক্ষা উপস্থাপন করেন। মার্ক্সের প্রাথমিক লেখা হিসাবে এই থিসিস সহ পরবর্তীতে আরো অনেক লেখায় মার্ক্স বারবার ব্যাক্ষা করেছেন – ঈশ্বর আসলে মানুষের তৈরী, মানুষ ঈশ্বরের তৈরী নয়। পিএইচডি থিসিসের পরিশিস্ট অংশে মার্ক্স এভাবে লিখছেন –

“ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণসমূহ নিছকই অসার বা শূন্যগর্ভ পুনরুক্তি। দৃষ্টান্তস্বরূপ একটি তাত্ত্বিক প্রমাণ নেয়া যাক। এটি শুধুমাত্র বোঝায়:

যা আমি বাস্তব পদ্ধতিতে নিজের মধ্যে ধারণ করি, তা-ই আমার জন্য বাস্তব ধারণা।
এটা এমন কিছু একটা বোঝায়, যা আমার উপর ক্রিয়াশীল। এ বোধ থেকে, প্যাগান হোক অথবা খৃষ্টান হোক- সব দেবতাই বাস্তব অস্তিত্বের অধিকারী। প্রাচীন দেবতারা কি প্রভুত্ব করে নি? ডেলফির এপোলো কি গ্রীকদের জীবনে একটি বাস্তব শক্তি ছিল না? এ বিচারে কান্টের সমালোচনার কোন মানেই নেই। কেউ একজন যদি কল্পনা করে যে, তার একশটি টাকা আছে, যদি এই ধারণা তার জন্য স্বেচ্ছাচারী না হয়ে বরং বিষয়ীগত হয়, যদি সে এতে বিশ্বাস করে, তাহলে এই শ’খানেক কল্পিত টাকা তার কাছে শ’খানেক সত্যিকারের টাকার সমান মূল্য পাবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ সে তার এই কল্প-দৃষ্টির শক্তিতে ঋণ কাঁধে তুলে নেবে; যেভাবে সকল মানবজাতি বয়ে চলেছে তাদের স্ব স্ব দেবতাদের (ঋণ)। এই বৈপরীত্যটি খাঁটি। কান্টের উদাহরণ তাত্ত্বিক প্রমাণকে জোরদার করতে পারে। কল্পিত দেবতাদের ততটাই অস্তিত্ব আছে, যতটা আছে কল্পিত টাকার। মানুষের সার্বজনীন অথবা সাধারণ কল্প-দৃষ্টি ছাড়া বাস্তব টাকার কোন অস্তিত্ব আছে কি? যদি এমন কোন দেশে কাগজের টাকা এনে হাজির কর যেখানে কেউই এর ব্যবহার জানে না, তাহলে সেখানে প্রত্যেকেই তোমার বিষয়ীগত কল্প-দৃষ্টিকে উপহাস করবে। তোমার দেবতাদের নিয়ে যাও এমন এক দেশে, যেখানে অন্য দেবতাদের অর্চনা করা হয়; তোমাকে বলা হবে উদ্ভট এবং অমূর্ততার শিকার। যিনি প্রাচীন গ্রীকদের সামনে কোন এক ভিনদেশী দেবতাকে হাজির করেন, তিনি এই দেবতার অনস্তিত্বের প্রমাণ পেয়ে যাবেন। প্রকৃতপক্ষে, গ্রীকদের জন্য সেই দেবতার অস্তিত্ব নেই। এক দেশের দেবতার যেমন অন্যদেশে অস্তিত্ব নেই, তেমনি বুদ্ধির দেশেও কোন ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকে না।
দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে, ঐ ধরণের প্রমাণসমূহ হচ্ছে অপরিহার্য মানব-আত্ম-চৈতন্যর অস্তিত্বের প্রমাণ, এর যৌক্তিক ব্যাখ্যাসমূহ। তাত্ত্বিক প্রমাণ এর উদাহরণ। চিন্তার বিষয় হয়ে গেলে কোন সত্তাটি প্রত্যক্ষ হয়? আত্ম-চৈতন্য।

এইভাবে নেয়া হলে, ঈশ্বরের অস্তিত্বের সকল প্রমাণই তাঁর অস্তিত্বহীনতার প্রমাণ। এগুলো ঈশ্বরের সকল ধারণারই খন্ডন। খাঁটি প্রমাণাদির এর বিপরীত বৈশিষ্ট্যও থাকা উচিত: “যেহেতু প্রকৃতি বাজে ভাবে তৈরী, সুতরাং ঈশ্বর অস্তিত্বমান”, “যেহেতু এই পৃথিবী যৌক্তিকতাহীন, সে কারণে ঈশ্বর অস্তিত্বমান”, “যেহেতু কোন চিন্তন নেই, সেহেতু ঈশ্বর আছেন” এগুলো আসলে একটা কথাই বলে। আর তা হলো যার জন্য জগত যৌক্তিকতাহীন, তার জন্যই ঈশ্বর অস্তিত্বমান। অথবা যৌক্তিকতায় ঘাটতি হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব।”

(ডেমোক্রেটিয় ও এপিকিউরিয় প্রকৃতির দর্শনের পার্থক্য, বাংলা অনুবাদ নাজমুল হাসান রাহাত, বোল্ড করা এই লেখকের, সূত্রঃ)

উপরের লেখাটুকু কার্ল মার্ক্সের এবং এই অংশটুকু থেকে কি ঈশ্বর বিষয়ে কার্ল মার্ক্সের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়? এই দৃষ্টিভঙ্গিটি কি আস্তিক্যবাদী? অজ্ঞেয়বাদী? নাকি নাস্তিক্যবাদী? ঈশ্বর প্রসঙ্গে এই লেখাটি কি কোনও “ঈশ্বর বান্ধব” টেক্সট?

প্রশ্ন রইলো পাঠকের কাছে।

এবারে দেখুন, আজ থেকে প্রায় একশো ছয় বছর আগে ১৯০৯ সালে, “ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক শ্রেনীর পার্টির মনোভাব” প্রবন্ধে ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে লেনিন কি বলেছিলেনঃ

“সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাসির সমস্ত বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র অর্থাৎ মার্ক্সবাদের উপরে। মার্ক্স ও এঙ্গেলস একাধিকবার যা ঘোষণা করেছেন, মার্ক্সবাদের দার্শনিক ভিত্তি হলো দান্দিক বস্তুবাদ, যা পুরোপুরি গ্রহন করেছে আঠারোশ শতকের ফ্রান্সের বস্তুবাদ এবং জার্মানিতে ফয়েরবাখের (১৯ শতকের প্রথমার্ধ) বস্তুবাদের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য – এ বস্তুবাদ নিঃসন্দেহেই নিরীশ্বরবাদী, দৃঢ় ভাবেই সব কিছু ধর্মের বিরোধী।স্মরণ করিয়ে দেই যে, মার্ক্স যে পান্ডুলিপিটি পড়ে দেখেছিলেন, এঙ্গেলসের সেই এন্টি ডুরিং গ্রন্থের সবটাতেই বস্তুবাদী নিরীশ্বরবাদী ডুরিং বস্তুবাদে সঙ্গতিহীনতা এবং ধর্ম ও ধর্মীয় দর্শনের জন্যে ফাঁক রেখে যাবার জন্যে সমালোচিত হয়েছিলেন। স্মরণ করিয়ে দেই যে, এঙ্গেলস লুডভিগ ফয়েরবাখ গ্রন্থে তাকে ভরতসনা করে বলেছেন যে তিনি ধর্ম নিশ্চিহ্ন করবার জন্যে নয়, বরং ধর্মের নবীকরন, নতুন একটা উচ্চ মারগীয় ধর্ম প্রনয়নের জন্যেই ধর্মের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন”।(ধর্ম প্রসঙ্গে, প্রগতি প্রকাশন, ১৯৮২, বোল্ড করা এই লেখকের)

ধর্ম প্রসঙ্গে মারক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি যদি বন্ধুত্বসুলভই হতো, তাহলে ফয়েরবাখ কে কেনও সমালোচনা করা হচ্ছে ধর্মের নবীকরণের জন্যে? ফয়েরবাখ ধর্মের ধংসের বদলে একে মানবিকিকরনের পক্ষে ছিলেন, যা কার্ল মার্ক্স কঠোর ভাবে সমালোচনা করেছেন, কেনো? আজকে যারা মার্কসবাদ কে “ধর্ম বান্ধব” হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, তাঁরা কি আসলে মার্ক্সের কাঁধে ফয়েরবাখের ভুতটিকেই চাপিয়ে দিচ্ছেন না?

প্রশ্ন থাকলো পাঠকের কাছে।

লেনিন আরো এক কাঠি সরেস, তাই তিনি লিখছেন এভাবেঃ

“আধুনিক সমস্ত ধর্ম ও গির্জা, সমস্ত ও সর্ববিধ সংগঠনকে মার্ক্স সর্বদাই মনে করতেন বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়ার সংস্থা, শ্রমিক শ্রেনীর শোষণ বজায় রাখা ও তাদের ধাপ্পা দেয়া তাদের কাজ”। (লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে, প্রগতি প্রকাশন, ১৯৮২, বোল্ড এই লেখকের)।

ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদী অবস্থান কে লেনিন যেভাবে ব্যাক্ষা করছেন, তা কি খুব “ধর্ম বান্ধব”? ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গির যে বয়ান টি আমরা লেনিনের লেখায় পাচ্ছি, তা কি আস্তিক্যবাদী? অজ্ঞেয়বাদী? নাকি নাস্তিক্যবাদী?

ধর্ম প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্স বা লেনিনের এই সকল লেখালেখি কি গত একশো বছর ধরে গোপন রাখা হয়েছিলো? নাকি এই সকল প্রকাশনাই প্রকাশ্য এবং প্রচারিত?

প্রশ্ন রইলো পাঠকের কাছে।

মার্ক্স উত্তর মারক্সীয় গবেষকদের ও অন্যান্য গবেষকদের মাঝে বিতর্ক আছে ধর্ম প্রসঙ্গে ব্রুনো বাউয়ার ও ফয়েরবাখ এর মধ্যে কার চিন্তা কার্ল মার্ক্সকে বেশী প্রভাবিত করেছে। ক্যাথলিন ক্লারকসন ১৯৭৩ সালে তাঁর অভিসন্দর্ভে মন্তব্য করেছেন এভাবে –

“ধর্মের সমালোচনার প্রসঙ্গে মার্ক্স তাঁর বিষয়গুলো নিয়েছিলেন ব্রুনো বাউয়ার এর কাছ থেকে, ফলে, ফয়েরবাখের তুলোনায় মার্ক্সের নাস্তিকতা খুবই মিলিট্যান্ট ধরনের” (Karl Marx and Religion: 1841 – 1846, Dissertation, McMaster University, Hamilton, Ontario, 1973, , পৃষ্ঠা – ২)

“বাউয়ার ছিলেন ধর্মের ধংসের পক্ষে আর ফয়েরবাখ ছিলেন ধর্মের মানবিকিকরনের পক্ষে। সেকারনেই ফয়েরবাখের “নাস্তিকতা” কে বলা হতো “ধার্মিক নাস্তিকতা” বা পায়াস এথিজম আর বাউয়ার ও মার্ক্স কে বলা হতো আপোষহীন – যুদ্ধংদেহী নাস্তিক”
।(ঐ পৃষ্ঠা – ৬)

ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোদ কার্ল মার্ক্স, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন এবং সমসাময়িক সময়ের একজন সাধারণ গবেষকের লেখা থেকে উপস্থাপন করলাম। পাঠক ভেবে দেখুন, সিদ্ধান্ত নেবার দরকার নেই, আগামী পর্ব গুলোতে কার্ল মার্ক্স – এঙ্গেলস ও লেনিনের আরো কিছু লেখা থেকে আলোচনা করার আশা রাখছি।

(চলবে)

Spread the love