(বাংলাদেশের ইসলামী মোল্লাতন্ত্রের আক্রমনে ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু বসত ভিটা। বেশীরভাগ সাম্প্রদায়িক আক্রমনের নেতৃত্ব এসেছে সরকারী দল ও তাঁর সহযোগীদের মধ্য থেকে। রাজনৈতিক নেতা হিসাবে – প্রধানমন্ত্রী দায় সেরেছেন “ক্ষতিপূরণ” দেয়ার মধ্যে দিয়ে।)

১। 

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি রাতে ঘুমাতে পারেন কিভাবে?”

এই বিখ্যাত প্রশ্নটি আমার নয়, ইরাক যুদ্ধ প্রসঙ্গে একজন ব্রিটিশ নাগরিক মুখোমুখি টিভি শো’তে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার কে প্রশ্নটি করেছিলেন। টনি ব্লেয়ার বিব্রত হয়েছিলেন এবং উত্তর দিয়েছিলেন। ধরুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও একজন বীর সাহসী মানুষ কোনও এক মুখোমুখি অনুষ্ঠানে জিজ্ঞাসা করলেন – এতো রক্ত – হত্যা- গুম – খুন- ধর্ষণ – নিপীড়নের মাঝে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি রাতে ঘুমাতে পারেন কিভাবে?” ভেবে দেখতে পারেন সেই সাহসী মানুষটির নিজের পরিনতি, তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পরিনতি কি হতে পারে?

২।
সাবেক বিবিসি উপস্থাপক এবং লেখক নেইল কোপেনডেল, প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার কে প্রশ্নটি করেছিলেন, তিনি তা করেছিলেন নাগরিক হিসাবে তাঁর অধিকার ও সচেতনতাবোধ থেকে। যুদ্ধের নামে টনি ব্লেয়ার – বুশ চক্র ইরাকে যে ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করেছিলেন, তার প্রতিবাদ জানাতে। ভদ্রলোক সেদিন টিভি শো থেকে নিরাপদে বাড়ী ফিরেছিলেন এবং এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। রাজনীতিবিদদের মিথ্যাচারের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এখনও সরব ভুমিকা পালন করছেন। ভেবে দেখুন তো – বাংলাদেশে একজন নেইল কোপেনডেল এর অবস্থাটা কি হতো? প্রথমত, বাংলাদেশে কোনও একজন কোপেনডেল নেই, কেননা, স্বাধীনভাবে নাগরিক অধিকার চর্চার ন্যূনতম স্থান বাংলাদেশে নেই। একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ধরনের প্রশ্ন করাটা হচ্ছে “দেশদ্রোহীতা”, ফলে – তিনি যেই হোন না কেনও, প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রতকর প্রশ্ন করার পরিনতি হতো – একাধিক মামলা মোকদ্দমা, দেশের আনাচে-কানাচে আওয়ামীলীগের অনুভুতি-প্রবন নেতাকর্মীদের মামলা, রাষ্ট্রের মামলা, বিশেষ বাহিনীর হয়রানী এবং সবশেষে র‍্যাব কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া এবং বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়া। একজন লেখক কিম্বা সাধারণ নাগরিক রাতারাতি পরিনত হতেন ‘জঙ্গী’ বা ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী’ বা ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসাবে এবং পরিনতিতে সরকারী কিলিং স্কোয়াড র‍্যাবের হাতে খুন হওয়া। ন্যুনতম নাগরিক অধিকারের চর্চার পরিনতি হয় যখন হয় চৌদ্দগুষ্ঠি নিয়ে নিপীড়নের শিকার হওয়া তখন সেইদেশে একজন “নেইল কোপেনডেল” থাকবেন না, সেটাই তো স্বাভাবিক, তাইনা? আগ্রহীরা নেইল কোপেনডেল আর ব্লেয়ার এর ভিডিওটি এখানে দেখতে পারেন (ক্লিক করুন)।

আমি জানি আমাদের পন্ডিত বন্ধুরা বলবেন – গণতান্ত্রিক চর্চার দিক থেকে ব্রিটেনের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করাটা হাস্যকর, কারণ ব্রিটেনের রয়েছে গনতন্ত্রের চর্চার দীর্ঘ ইতিহাস।

(লাতভিয়ার সেই ‘বোকা’ প্রধানমন্ত্রী, লাতভিয়ার সবচাইতে সফল প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও যিনি ম্যাক্সিমা শপিং মলের ছাদ ধ্বসে ৫৪ জন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায়, নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।)

৩।
লাটভিয়া কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে ১৯৯১ সালে। কথিত গনতন্রের পথে তাঁদের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯১ সালের ৪ মে। দেশটির সবচাইতে সফল প্রধানমন্ত্রীদের একজন হিসাবে যাকে মনে করা হয় তিনি হচ্ছেন – ভালদিস দ্রমবোভস্কি। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুক্তির পর দেশটি যখন প্রায় অর্থনৈতিক দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছিলো, তখন তিনিই লাতভিয়া নামের “ডুবন্ত জাহাজ”টিকে বাচিয়েছিলেন। তিনি লাটভিয়ার দুবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আমলে ২০১৩ সালে একটি সুপার মলের ছাদ ধসে ৫৪ জন মানুষ মারা যায় এবং চল্লিশ জন নাগরিক আহত হন। সাধারণ জনগনের বিক্ষোভ ও জাতীয় সংসদে সমালোচনার মুখে, তিনি তাঁর নিজ দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি মনে করেন ভবন নির্মাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে না পারাটা তাঁর রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং তাঁর দায় নিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। লাতভিয়ার সেই মলটির ছাদ ধসে পড়ার কারণ হিসাবে ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন এবং নিম্নমানের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

আমাদের দেশে – সেই একই সালে ঢাকার কাছে “রানা প্লাজা” বলে একটি ভবন ধসে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিহত হন। সারা দেশব্যাপী যখন সমালোচনার ঝড় ওঠে এই হত্যাকান্ডের হোতাদের শাস্তির দাবীতে, তখন তাৎক্ষনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীও শামিল হয়েছিলেন ভবনটির মালিক তাঁর দলের নেতাকে বাচানোর স্বভাব-সুলভ প্রয়াসে। প্রধানমন্ত্রী এটাকে কেবল একটি দুর্ঘটনা বলে “স্মার্ট” উত্তর দিয়েছিলেন সারা দুনিয়ার কাছে (আগ্রহীরা সেই ঘটনার পরে সিএনএন কে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন এখানে)। দেশের গারমেন্টস সেক্টরের সীমাহীন অমানবিক কর্ম পরিবেশ, বেঁচে থাকার জন্যে ন্যুনতম মজুরীর অভাব, সারা দেশব্যাপী কন্সট্রাকশন সেক্টরে যে সীমাহীন দুর্নীতি, রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ব্রিজ – কাল্ভারট – বহুতল ভবন নির্মাণ, দেশের সকল নির্মাণকাজের টেন্ডার নিজ দলের নেতাকর্মীদের দখলে চলে যাওয়া, এ সকল বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কোনও রাজনৈতিক দায় নেই। তাই রানা প্লাজার মতো কেবল একটি ঘটনা নয় এরকমের দশটি ঘটনাও তাঁর কাছে কেবলই দুর্ঘটনা কিন্তু লাতভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ম্যাক্সিমা সুপার মলের ছাদ ধসে যাওয়াটা জনগনের প্রতি – সমাজের প্রতি তাঁর রাজনৈতিক ব্যর্থতা। কেননা – লাতভিয়ার সংসদ রাজনীতিবিদদের সংগঠন, “পা-চাটা” এমপি এবং গৃহপালিত বিরোধীদলের নয়। কেননা লাতভিয়াতে জনগনের বিক্ষোভের একটা রাজনৈতিক অর্থ আছে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জনগনের বিক্ষোভের কোনও রাজনৈতিক মানে নেই।

বাংলাদেশের গনতন্ত্রের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের সাথে কি লাতভিয়ার তুলনা করা চলে?
আগ্রহীরা এখানে খবরটি পড়তে পারেন

৩।
বিচার ব্যবস্থা যখন ধ্বসে পড়ে তখন “বিচারবোধ”হীন মানুষেরা রাজত্ব শুরু করে। বাংলাদেশ এখন “বিচারবোধ”হীন মানুষের স্বর্গ। এখানে পুলিশ খুন করছে সাধারণ জনগনকে, সামরিক বাহিনীর মানুষ সাধারণ নাগরিকদের উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ক্যান্টনমেন্ট এ কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করা হচ্ছে, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মচারীরা ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছে মাসিক মাসোহারার জন্যে, সংসদের এমপি হাসপাতালে ডাক্তারের চাকুরী খেয়ে নিচ্ছে, সাংসদ স্কুলের শিক্ষককে লাঞ্ছনা করছে,ইসলামের সৈনিকেরা সঙ্গীতপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপককে খুন করছে, সারাদেশে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাসীনেরা হিন্দু ধর্মের মানুষের উপরে নির্যাতন করছে, তাঁদের ভিটে-বাড়ী দখল করে নিচ্ছে, প্রতিদিন পাহাড়ে ঘটছে পাহাড়ী মানুষের উপরে নির্যাতন – গুম – খুন – ধর্ষণ, এই সকল ঘটনায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর কি কোনও রাজনৈতিক দায় আছে?

(খোদ সামরিক বাহিনীর আবাসিক এলাকায় ঘটেছে কুমিল্লার কলেজ ছাত্রীর ভয়াবহতম ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড। রাষ্ট্র শুধু ধামাচাপাই দেয়নি, এই ঘটনায় এখন আক্রান্ত পরিবারটিই ফেরার জীবন যাপন করছে।)

৪। 

যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় – পাঁচ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়, সে রাতে আপনি ঘুমাতে পারেন কিভাবে? রানা প্লাজার ভিকটিমদের যথাযথ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ না করে আপনি রাতের খাবার খেতে পারেন কিভাবে? যখন প্রতিদিন পাঁচশোর অধিক সংখ্যালঘু মানুষ নিজের বাপ-পিতামহের দেশ ভিটেমাটি ছেড়ে উদ্বাস্তু জীবন বেছে নেয়, তখন আপনি কিভাবে ম্যানেজ করেন রাতের “সুখনিদ্রা”? যখন পাহাড়ী জনপদে খাকি পোশাকের সদস্যরা – আপনার দলের কর্মীরা গড়ে তোলে হত্যা – নিপীড়ন – ধর্ষণের রাজত্ব, তখন আপনি কিভাবে ম্যানেজ করেন রাতের ঘুম? এই প্রশ্নটি কি খুব অন্যায় কোনও প্রশ্ন? দেশে কি একজন সাহসী মানুষ আছেন প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি এই প্রশ্নটি করার?

৫।
আমি জানি আমাদের “যুক্তিবাদী” আওয়ামী বন্ধুরা আমার এই সকল প্রশ্নের প্রেক্ষিতে পালটা “স্মার্ট” প্রশ্ন তুলবেন – দেশের সকল অন্যায় অপরাধ কি প্রধানমন্ত্রীকে বলে কয়ে হয়? তা হয়তো হয়না, কিন্তু একটি দেশে যখন অপরাধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যখন দুর্নীতি সর্বগ্রাসী হয়, যখন আদালত দলীয় বিবেচনাবোধে চালিত হয়, যখন সামরিক বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যার মেশিনে পরিনত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন চাঁদাবাজ – মাস্তান ছাত্র-শিক্ষকদের আস্তানা হয়ে ওঠে। ইসলামী মোল্লাতন্ত্রের অব্যাহত উত্থানে সংখ্যালঘু মানুষেরা যখন নিজ দেশে পরবাসী হয়ে ওঠেন – তখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনও দায় আছে? দায় থাকে? একটি সেকুলার – ধর্মনিরপেক্ষ সমাজকে অব্যাহত মোল্লাতন্ত্রের দিকে ধাবিত করার জন্যে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোনও দায় আছে? দায় থাকে?

দেশের প্রায় প্রতিটি সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহন আজ প্রমানিত। শত শত হিন্দু বাড়ী ধ্বংস করা, হিন্দু ধর্মের প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা, মন্দির ভেঙ্গে ফেলা, নারী ও প্রবীন নাগরিকদের অপদস্থ করা – এই ধরনের সকল কাজের সাথে প্রধানমন্ত্রীর দল, তাঁর প্রিয়ভাজনেরা, দলীয় প্রশাসন, পুলিশ – সামরিক বাহিনী সকলেই জড়িত হয়েছেন। একটা গণতান্ত্রিক আকাংখার দেশে এই ধরনের ঘটনার দায় কার?

৬।
আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সেই দায় নেই, সেজন্যেই লাতভিয়ার প্রধানমন্ত্রী ৫৪ জন নাগরিকের মৃত্যুকে নেতা হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঘোষণা দিয়ে ইস্তফা দেন আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেড়হাজার নিরীহ শ্রমিকের নিহত হবার ঘটনাকে চাপা দেন “দুর্ঘটনা” হিসাবে।প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের জীবনের সাথে জড়িত ছিলো আরো পাঁচ – ছয় হাজার মানুষের অন্ন সংস্থানের প্রশ্ন, সেই সকল অভাবী মানুষদেরকে শ্রেফ একটি দুর্ঘটনার “শিকার” বানিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী হাফ ছেড়ে বেচেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের হাত ঝেড়েমুছে ফেলার পরও দীর্ঘদিন নিহত মানুষের স্বজনেরা অনেকেই ছবি হাতে ঘুরে ফিরেছেন যান রানা প্লাজার আশে পাশে। এই নিহত শ্রমিকদের আয় করা ফরেন কারেন্সির গৌরব ঘোষণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

(রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবী আজও পূরণ হয়নি। ক্ষতিপূরণের টাকা এসেছে দেশে এবং সেখানেও লুটপাটের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।)

৭।
খালেদা জিয়া এবং শেখা হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সবচাইতে বড় যে ধ্বংস সাধন হয়েছে, তা হচ্ছে আমাদের “বিবেচনাবোধ” এর ধ্বংস সাধন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সাহেব শ্রমিকলীগের সন্মেলনে সারাদিন দর্শকসারিতে বসে কাটান, তাতে তাঁর কোনও নৈতিক টানা-পোড়েন হয়না, কেননা, তাঁর পদ ও চাকুরী উভয়ই দলীয় আনুগত্যের দক্ষিনা। এখন পুলিশ – সামরিক বাহিনীর মানুষেরা দলীয় কর্মীদের মতো করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করেন, কেননা তাঁদের কোনও পেশাগত নৈতিকতা গড়েই ওঠেনি, তাঁরা পেশায় যোগ দিয়েছেন দলীয় কর্মী হিসাবে এবং পেশাটি চালিয়েও যাচ্ছেন দলীয় কর্মী হিসাবে। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র ছিলো স্বাধীন, রাজনৈতিক দলীয় প্রভাবমুক্ত, খালেদা – হাসিনার শাসনের বদৌলতে সেই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পরিনত হয়েছে – দলীয় অঙ্গ সংগঠন। পাবলিক সারভিস কমিশন আর আদালত ছিলো জনগনের শেষ দুটি ভরসা। এদেরকেও রাজনৈতিক অঙ্গ সংগঠনে পরিনত করা হয়েছে। দেশে এখন সরকারী চাকুরী হয় দুটি যোগ্যতায় – নগদ টাকা আর দলীয় আনুগত্য। আদালতে এখন বিচার পাওয়া যায় দুইটি সামর্থ্যে – নগদ টাকা আর দলীয় ক্ষমতা। একটি সম্ভাবনাময় গণতান্ত্রিক দেশকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে একটি দুর্নীতিগ্রস্থ স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিনত করার সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসে খালেদা – হাসিনার নাম উল্লেখযোগ্য হিসাবে গন্য হবে। স্বৈরশাসক শুধু উর্দির ভেতর থেকেই আসেনা, রেশমি – ঝলমলে পোশাক পরেও আসে। দ্বিতীয় ধরনের স্বৈরশাসক কত ভয়াবহ হয় তা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছে এখন।

৮।
এতো রক্ত-হত্যা-গুম-খুন-ধর্ষণ– অনাচার-নিপীড়নের মাঝে – “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি রাতে ঘুমাতে পারেন কিভাবে”?

৯।
ইদি আমীন ঘুমাতে পারতেন। রবার্ট মুগাবে ঘুমাতে পারতেন। বুশ-ব্লেয়ার ঘুমাতে পারেন।এরশাদেরও ঘুমের কোনও সমস্যা ছিলোনা। জানি আপনারও রাতের ঘুমের কোনও সমস্যা হয়না।

Spread the love