বাংলাদেশে একেকটা সময়ে কিছু কিছু “হট-কেক” শব্দ আসে। হট-কেক বাজারে বিক্রি হয় হু হু করে, মানে মুহূর্তের মধ্যে বিক্রেতার সকল মজুদ শেষ হয়ে যায়। তেমনি একটি “হট-কেক” শব্দ বা শব্দবন্ধ হচ্ছে “ইসলাম বিদ্বেষ”। তবে এই হট-কেক এর মজুদ শেষ হবেনা। যে দেশে একাডেমিক ভাবে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বিক্রি হয়ে যায় হেফাজতি মুল্যবোধের কাছে, সেখানে ইসলামী জুজু আর তার বানানো “হট-কেক” দিয়েই রাজত্ব চলে। আপনি ইসলাম আর তার নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে কিছুই বললেন না, শুধু আপনি আল্লাহর একত্ববাদ কে অযৌক্তিক বা কল্পকাহিনী বললেন, আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী” হিসাবে গন্য হলেন। আপনি ইসলামের কথিত ধর্মগ্রন্থ কুরআন থেকে উদ্ধৃত করে দেখালেন যে “আল্লাহ্‌” নামের কল্পিত চরিত্রটি কতটা ঈর্ষাপরায়ন, ক্ষমতালোভী, দাম্ভিক, অত্যাচারী, মর্ষকামী, ধ্বংসকারী – যিনি তারই সৃষ্টি মানুষকে শ্রেফ অবাধ্যতার অপরাধে লক্ষ বছর ধরে শাস্তি দিতে চান। এই শাস্তি নাকি নিরন্তর, শেষ হবার নয়। শাস্তি ভোগ করতে করতে আপনার গায়ের মাংস খুলে পড়বে, মস্তিস্ক করোটি থেকে মগজ গলে বেরিয়ে পড়বে, আপনি তৃষ্ণার্ত হবেন কিন্তু একফোঁটা জল মিলবেনা, প্রচন্ড ক্ষুধার পেটে আপনার জন্যে বরাদ্দ হবে অদ্ভুত সব প্রানীর মল-মুত্র, তাঁদের নাড়ী-ভুডি, আপনার আজাব শুরু হয়ে যাবে আপনাকে কবরে শোয়ানোর সময় থেকে আর তা চলবে লক্ষ লক্ষ বছর, শাস্তির পরিনামে আপনার কখনও মৃত্যু হবেনা, দিন – বচ্ছর শতাব্দী চলে যাবে … তবুও আপনার শাস্তি শেষ হবেনা। দিনের শেষে এই “আল্লাহ্‌” আপনাকে আবার গড়ে তুলবেন কেবল শাস্তি দেবার জন্যে। এই সকল শাস্তি কেবল আপনি তার একত্ববাদকে স্বীকার করেননি বলেই, কিম্বা তার কথিত রাসুল মুহাম্মদের কর্তৃত্ব স্বীকার করেননি বলেই। কিম্বা আপনি হয়তো ভিন্ন কোনও ধর্মের অনুগামী, হয়তোবা কোনও মাটির মূর্তির আরাধনাকারী, আপনি যেই হোননা কেনও, আপনি যেহেতু এই “আল্লাহ্‌”র একত্ববাদ কে অনুসরণ করেন না, তাই আপনার জন্যে বরাদ্দ লক্ষ লক্ষ বছরের অনিঃশেষ এই সকল শাস্তি। ভেবে দেখুন, পৃথিবীতে দ্বিমত পোষণ করার জন্যে কেউ আপনাকে এই রকমের অনন্তকাল ধরে শাস্তি দিতে পারবেনা। দুনিয়ার সবচাইতে বজ্জাত সামরিক শাসকটিও আপনাকে এইভাবে অনন্তকাল ধরে শাস্তি দিতে চাইবেনা। উগান্ডার ইদি আমিনের মতো বদখত সামরিক শাসকও তার বিরুদ্ধাচারনকারিদের এভাবে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে শাস্তি দিতে চাননি। কিন্তু ইসলামের এই কথিত সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ একটু আধটু শাস্তি দানে তৃপ্ত নন, তিনি আপনাকে শাস্তি দিতে চান অনন্ত কাল ধরে। এইরকমের একটি সত্ত্বাকে যদি আপনি ভুল করেও “স্যাডিস্ট” বলে ফেলেন, তাহলেই মরেছেন – আমাদের হেফাজতি বাঙ্গালী ভাই – বেরাদর – বহিনরা আপনাকে বলবেন –“ইসলাম বিদ্বেষী”।

ইসলামের মহানবী কিভাবে “বোরাক” নামের এক অদ্ভুদ ঘোড়ার পিঠে করে মহাকাশ ভ্রমন করলেন, সেই প্রশ্ন করা মানে আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী”। কিম্বা আকাশকে কিভাবে সর্বশক্তিমান “আল্লাহ্‌” স্তম্ভ ছাড়াই পৃথিবীর উপরে ঝুলিয়ে রেখেছেন এবং তিনি তার উপরে বসে আছেন, এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তো আপনি একজন “ইসলামবিদ্বেষী”তে পরিনত হলেন। ইসলামী পুরুষের চারজন স্ত্রী এবং বোনাস হিসাবে “দাসী” ওরফে রক্ষিতা রাখা নিয়ে প্রশ্ন করলেন তো আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী”তে পরিনত হলেন। যুদ্ধে পরাজিত পক্ষের সম্পদের সাথে তাঁদের নারীদেরকেও “গনিমতের মাল” হিসাবে গন্য করা নিয়ে কোনও প্রশ্ন করেছেন তো মরেছেন, আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী” হিসাবে পরিচিত হলেন। যুদ্ধে যার পিতা ও স্বামীকে হত্যা করেছেন ইসলামের নবী, সেই রাতেই সেই নারীকে যেতে হয়েছিলো ইসলামের নবীর সাথে, বিছানায়, এটা কতটা মানবিক, এই প্রশ্ন তুলেছেন তো মরেছেন, আপনি একজন ইসলাম বিদ্বেষীতে পরিনত হয়েছেন। এমন কি আপনি যদি “যাকাতের অর্থনীতি” নামের অশ্বডিম্বটি নিয়ে একটি বিশুদ্ধ একাডেমিক প্রশ্নও তোলেন, তাহলেও আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী” হিসাবে পরিগনিত হবেন। ইসলামে বিরোধিতা তো দূরের কথা, প্রশ্ন তোলাও হচ্ছে “বিদ্বেষ”।

এমন কি আপনি যদি সিরিয়ায় বোমার ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো মানুষগুলোর স্বপক্ষে কথিত সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র ক্ষমতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রশ্ন করেন কেনও এই সর্ব শক্তিমান “আল্লাহ্‌” সিরিয়ার মানুষ গুলোকে রক্ষা করছেন না, কেনও এই মানুষগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতার হাত থেকে বাঁচার জন্যে আবার সেই অবিশ্বাসী কাফেরদের দেশে গিয়েই হাজির হচ্ছে? তাহলেই আপনি একজন “ইসলামবিদ্বেষী” তে পরিনত হবেন। অথচ এই সকল মানুষ নিরেট ধার্মিক মানুষ, নামাজ – রোজা হজ জাকাত পালন করা মানুষ, এঁদের সন্তান, এই সকল শিশুরা স্বাভাবিক জ্ঞান হবার পর থেকেই এই কথিত সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র বন্দনা করে আসছে। এই শিশুরা এবং এঁদের পিতামাতারা অন্ধের মতো কুরআন মুখস্থ করেছেন, আউড়েছেন দিনের পর দিনে। ঈমান আর তাওহীদের সাথে বেইমানী করেননি কখনও, মেনে চলেছেন শরিয়ার প্রতিটি বয়ান। তবুও যুদ্ধের ছোবল এঁদের রক্ষা করতে পারেনা। নিজের শরীরের রক্ত মুছতে মুছতে এরা নিজের পিতা-মাতাকে মরে যেতে দেখেছে। হয়তো কখনও কোনও পিতা তার দুই কাঁধে বোমার আঘাতে আহত দুই শিশুকে নিয়ে প্রানপনে হাসপাতালে ছুটেও বাঁচাতে পারেননি তাদের কাউকেই। এইসকল নিয়ে ইসলামের কথিত সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র ক্ষমতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তো মরেছেন। আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী”। কেনও জর্জ বুশের মতো একজন বর্বর নাসারা কে “আল্লাহ্‌” এতো পছন্দ করেন, কেনও তার হাতে এতো ক্ষমতা দিলেন যে এক লহমায় ইরাকের মতো একটি জনপদ ধ্বংস করে দিলো, প্রায় চার লক্ষ মানুষকে হত্যা করলো যাদের সবাই মুসলমান ছিলেন, প্রায় ছয়লক্ষ শিশুকে অনাথ এতিম করলেন? কেনও এই শিশুদের প্রায় অর্ধেক এখন ইরাকের রাস্তায় রাস্তায় অনাহারে – অর্ধাহারে দিন যাপন করে? এসকল প্রশ্ন তুলেছেন তো মরেছেন। আপনি একজন “ইসলাম বিদ্বেষী”তে পরিনত হয়েছেন।আল্লাহর নির্দেশ ব্যতীত দুনিয়ার কোনও একটি গাছের একটি পাতাও নড়েনা কিন্তু পাকিস্তানে প্রতিমাসেই মুসলমানের হাতে খুন হচ্ছে শত শত মুসলমান। সুন্নী মুসলমানেরা খুন করছে শিয়া মুসলমানকে আর শিয়া মুসলমানেরা খুন করছে সুন্নীদের। কেনও এমনটা হয়? ভাইয়ে ভাইয়ে এই হানাহানি বন্ধ করার ক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র ভুমিকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলেছেন তো আপনি হয়ে যাবেন “ইসলামবিদ্বেষী” !

আর সবশেষে আপনি যদি কমিউনিস্ট বা বামপন্থীদের মতো করে প্রশ্ন তোলেন কথিত সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র দুনিয়ায় এতো অসমতা কেনও? কেনও মাত্র এক শতাংশ মানুষের হাতে দুনিয়ার নব্বই শতাংশ সম্পদ? কেনও পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ শিশু দুবেলা খেতে পায়না? কেনও আফ্রিকার মুসলমান দেশগুলোতে খেতে না পাওয়া হাড্ডিসার শিশুরা নিজের শরীরের সমান ওজনের অটোমেটিক রাইফেল কাঁধে করে ঘুরে বেড়ায়? কারা এই সকল খেতে না পাওয়া শিশুদের কাঁধে অটোমেটিক রাইফেল ঝুলিয়ে দেয়, তাদের উপরে কি এই কথিত সর্বশক্তিমান “আল্লাহ”র কোনও রকমের কর্তৃত্ব আছে? কেনও “আল্লাহ”র দুনিয়ায় এতো ক্ষুধা আর মৃত্যু? কেনও “আল্লাহ”র দুনিয়ায় রাজত্ব করে তারই ভাষায় যারা পথভ্রষ্ট – ইহুদী – খ্রিষ্টান – নাসারা গোষ্ঠী? এসব প্রশ্ন করেছেন তো মরেছেন, কমিউনিস্ট বা বামপন্থী হিসাবে বাই ডিফল্ট আপনার গায়ে লেগে যাবে “ইসলাম বিদ্বেষী” তকমা।

 

এবারে আসুন “বিদ্বেষ” নয় কোন গুলো তা জেনে নেই। ইসলামের নবী যখন সারা দুনিয়াতে ভিন্ন ধর্মের প্রতিমা ভাঙ্গার হুকুম দিয়ে যান, তিনি নিজে যখন কাবা ঘরের অস্তিত্তমান মূর্তিগুলোকে কাঁধে করে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেন, ধ্বংস করেন, সেটা বিদ্বেষ হয়না সেটা হয় ইবাদতের অংশ, ঈমানের অংশ। ইসলামের নবীর আদেশ মোতাবেক যখন সারা দুনিয়াতে ইসলামী সৈনিকেরা সকল ধরনের মূর্তি ভাঙ্গার কাজে নিজেদের নিবেদিত করেন, সেটা বিদ্বেষ হয়না, সেটা হয় ঈমানের অংশ। ইসলামের নবীর আদেশ মোতাবেক যখন বাংলাদেশে – পাকিস্তানে – ভারতে হিন্দু মন্দির ভাঙ্গার উৎসব হয়, সেটা বিদ্বেষ হয়না, সেটা হয় ঈমানের অংশ, ইবাদতের অংশ। সারা আরব জাহানে কোনও বিধর্মীর প্রকাশ্যে নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নেই, ইসলামী দেশগুলোতে নেই ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়, এটা কোনও রকমের বিদ্বেষ নয়, এটা ইবাদত, এটা ঈমানী দায়িত্ব, এটা ভালোবাসার লক্ষন। সারা মুসলিম দুনিয়ায় মুসলমানেরা ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপরে নিপীড়ন নির্যাতন চালান, সেটা বিদ্বেষ হয়না, সেটা হয় ঈমানের অংশ।

বাংলাদেশে তিনলক্ষ মসজিদ আছে। এই মসজিদ গুলোতে প্রতি শুক্কুরবারে খুৎবাতে সারা দুনিয়ার অমুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি যে বিপুল ঘৃণা ছড়ানো হয়, তা কোনও বিদ্বেষ নয়, তা বরং ভালোবাসা। বাংলাদেশে সারা বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ওয়াজ মাহফিল হয়ে থাকে, যেখানে নারীদের কে বস্তাবন্দী করে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়, যেখানে কাফের আর অবিশ্বাসীদের খুন করার পরামর্শ দেয়া হয়, যেখানে হিন্দু – বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মের মানুষদের উপাসনালয় ভেঙ্গে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু এসব কোনও “বিদ্বেষ” নয়, এসব কেবলই ঈমানী দায়িত্ব, এসব কেবলই ভালোবাসা।

আপনি চাইলে, মুসলমানদের এই ঈমানী দায়িত্ব কে অর্থাৎ মুহাম্মদের নেতৃত্বে কাবাঘরের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা থেকে শুরু করে রামুর বৌদ্ধ মন্দির আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়াকে, ঝিনাইদহ বা রাজশাহীর মন্দির ভাঙ্গার ঘটনাকে কিম্বা যশোর এর পুজার প্রতিমাকে ভেঙ্গে দেবার ঘটনাকে নানান ঢঙে ব্যাখ্যা করতে পারেন। খোদ কার্ল মার্ক্সকে নামিয়ে আনতে পারেন, প্রমান করে দিতে পারেন যে বেচারা কার্ল মার্ক্সের কাংখিত বিপ্লবের সাথে ইসলামের এই সকল ভাঙ্গাভাঙ্গির দারুন মিল। কার্ল মার্ক্স বুর্জোয়াদের উৎখাত করে শ্রমিকের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিলেন আর মুসলমানেরা পৃথিবীর সকল ধর্মকে উৎখাত করে, কাফেরদের জবাই করে কেবল মুসলমানদের ধর্ম কায়েম করতে চায়, বলুন মিল আছে কিনা? সুতরাং ইসলামী জঙ্গের সাথে মার্ক্সবাদের দারুন মিল, অথচ বাঙ্গালী মার্কসবাদীরা তা বুঝলোনা। এরা দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে এসে আজও শামিল হলোনা। এইজন্যে বাংলাদেশের বামপন্থীরা হচ্ছে “ইসলামবিদ্বেষী”। অথবা পোশাকি ভাবে কার্ল মার্ক্স, ফুকো, দেরিদা বা ফ্র্যাঙ্কফুরট স্কুল কে ব্যবহার না করে সরাসরি আমাদের রাজ্জাক হুজুরের বয়ান কে ব্যবহার করতে পারেন। যিনি বলেন মুসলমানের রক্ত হচ্ছে মূর্তি ভাঙ্গার রক্ত, যার রক্তে মাংসে ন্যূনতম ইসলামী জোশ আছে, তিনি চিরকাল মূর্তি ভাঙ্গার কাজ করে যাবেন। মূর্তি ভাঙ্গার কাজটা কোনও “বিদ্বেষ” নয়, এটা ঈমানী দায়িত্ব। যিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নারী হচ্ছে একটি পাপের আধার। নারীর মুখশ্রী হচ্ছে পাপ। নারীর প্রতিটি অংশ পাপ। নারী হচ্ছে পাপে জরজর একটি প্রানী। নারীর কাছ থেকে তাই দূরে থাকা হচ্ছে পুন্যের কাজ। নারীর বিরুদ্ধে এই সকল শব্দমালা “বিদ্বেষ” নয়, কেবলই ইসলামী ঈমানী দায়িত্ব।

এবারে আসুন হেফাজতি মূল্যবোধ বা সুন্নী ইসলামী মূল্যবোধ কাকে বলে দেখি। আপনি সারা মাস দুর্নীতি করেন, ঘুষ খান, চুরি করেন, ডাকাতি করেন, চিনিতে, চাউলে, গমের ভেতরে ভেজাল দেন, আটার গোলাকে ঔষুধ বলে চালিয়ে দেন, পচা মাছ আর সব্জী ফরমালিন দিয়ে বিক্রি করেন, ইভ টিজিং করেন, নারী বা শিশু ধর্ষণ করেন, মানুষ পাচার করেন, রাজনীতির নামে দেশের সম্পদ পশ্চিমাদের কাছে বিক্রি করে দেন … কেউ আপনাকে “ইসলাম বিদ্বেষী” বলবেন না। আপনি ভেজাল ম্যাটেরিয়ালস দিয়ে ভবন নির্মাণ করুন, সেই ভবনে দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হোক, কেউই আপনাকে “ইসলাম বিদ্বেষী” বলবেন না। আপনি বেপরোয়া গাড়ী চালিয়ে শিশু – নারী – বৃদ্ধ বা তরুন পথচারীকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলুন, কেউই আপনাকে “ইসলাম বিদ্বেষী” বলবেন না। আপনি আদম ব্যবসায়ের মাধ্যমে হাজার হাজার নিরীহ সাধারণ বাঙ্গালী নারীকে সৌদী আরবে পাঠিয়ে দিন যারা সেখানে প্রতিদিন তাদের গৃহকর্তা বা তাদের পুত্রদের হাতে কখনও কখনও উভয়ের দ্বারাই ধর্ষিত হচ্ছে প্রতিদিন – কেউ আপনাকে “ইসলাম বিদ্বেষী” বলবেন না। আপনি সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিন, ঢাকার কিম্বা চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে বিক্রি করুন – কেউ আপনাকে “ইসলামবিদ্বেষী” বলবেন না। আপনি শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার মতো ক্ষমতায় থাকার জন্যে বা ক্ষমতায় যাবার জন্যে পেট্রোল বোমা দিয়ে কয়েকশো মানুষ খুন করুন, তবুও কেউ আপনাকে “ইসলামবিদ্বেষী” বলবেন না। কেবল আপনি মুহাম্মদের যৌন জীবন নিয়ে রুচি – অরুচির প্রশ্ন তোলেন, মুহাম্মদের ইসলামের প্রচারের সাথে বিভিন্ন গোত্রের উপরে অত্যাচার – নিপীড়ন – ডাকাতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আপনি একজন “ইসলামবিদ্বেষী” হিসাবে পরিগনিত হবেন। আপনাকে হত্যা করা “ওয়াজিব” হিসাবে ঘোষণা করা হবে। রাজপথে আপনার ফাঁসী চেয়ে ভাংচুর হবে, আপনার মুন্ডুর দাবীতে লক্ষ মানুষের সমাবেশ হবে বড় শহরগুলোতে। এটাই হেফাজতি মূল্যবোধ। আমাদের এই সময়ের জাতীয় চেতনা। এবং এই চেতনার সমর্থক হিসাবে আপনাকে কেউ “ইসলামবিদ্বেষী” বলবেন না।

বাংলাদেশ এখন হেফাজতি মুল্যবোধের স্বর্গ। হেফাজত আমাদের জীবন যাপন নির্ধারণ করে দিচ্ছে। হেফাজত আমাদের পেশা ঠিক করে দিচ্ছে। হেফাজত ঠিক করে দিচ্ছে আপনার ছেলে কি পড়বে আর মেয়ে কি পড়বে। হেফাজত ঠিক করে দিচ্ছে আপনার ছেলে কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়বে আর আপনার মেয়ে কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়বে। সুতরাং, আপনি যদি হেফাজতি মুল্যবোধের মানুষ না হন, যেকোনো দিন আপনি হয়তো একজন “ইসলামবিদ্বেষী”তে পরিনত হবেন।হেফাজতি মুল্যবোধের বাংলাদেশে তাই প্রতিটি বিবেকবান মানুষ এখন “ইসলামবিদ্বেষী”। কাপুরুষ – বিবেক – বিবেচনাবর্জিত নপুংসকেরা হচ্ছেন ইসলাম প্রেমিক, ঈমানী দায়িত্ব পালনের জন্যে যারা অন্য ধর্মের মানুষ কে খুন করতে প্রস্তুত, অন্য ধর্মের মানুষের উপাসনালয় ভেঙ্গে ফেলতে প্রস্তুত, কিম্বা নিদেন পক্ষে – এটুকু বলতে প্রস্তুত দিনের শেষে – “আল্লাহ্‌ যা করেন, ভালোর জন্যেই করেন”, তা সে কাফেরকে জবাই হোক বা হিন্দু মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হোক। বলাই বাহুল্য নপুংসকেরা সংখ্যা্য় কোটি কোটি, সাহসী মানুষ হাতে গোনা কিছু।

আপনি কোন দিকে ভেবে দেখুন।

Spread the love