(পারভেজ আমির আলী হুডভয় জন্ম গ্রহন করেন ১৯৫০ সালে। দক্ষিন এশিয়ার একজন প্রথম সারির নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী এবং পাকিস্তানের একজন শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী হিসাবে তিনি পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি (এম আই টী) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তাঁর পি এইচ ডি লাভ করেন এবং বর্তমানে ইসলামাবাদে কায়দে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে কর্মরত আছেন। যুক্তরাস্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে কাজ করে থাকেন। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয় এম আই টি। ইসলামের রাজনইতিক দর্শন বিষয়ে তাঁর বহু লেখা রয়েছে। পাকিস্থানের সাধারন জনগোষ্ঠী কে যুগ যুগ ধরে অমানবিক পশ্চাৎপদ জীবনে ধরে রাখার পেছনে ইসলাম তথা ধর্মের ভুমিকা নিয়ে তিনি বহু লেখা লিখেছেন, রেডিও সাক্ষাতকার ও টিভি ডকুমেন্টারী্তে অংশ নিয়েছেন এবং সেসব তৈরী ও প্রচারে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছেন। তাঁর এই সাক্ষাতকার টি ২০১০ সালে মিডল ইস্ট কোয়ারটারলি তে ছাপা হয়। এখানে সাক্ষাতকারটী হুবুহ বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।

প্রফেসর পারভেজ হুডভয় আস্তিক বা নাস্তিক এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য তথ্য আমার জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন ইসলামের যথাযথ সংস্কার মুসলমানদের কে আধুনিক বিশ্বের মুলধারায় নিয়ে আসতে পারে। তাঁর এই সাক্ষাতকার টি অন্তত আধুনিক ও উদারপন্থী মুসলিম নাগরিকদের কিছু চিন্তার খোরাক দেবে।

অনুবাদ বিষয়ে যেকোন মতামত ও পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে। সাক্ষাতকার এর মতামত অধ্যাপক পারভেজ আমির আলীর নিজস্ব, এ প্রসঙ্গে এই অনুবাদকের কোনও দায় নেই।)

প্রশ্নঃ সারা দুনিয়াতে মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রায় দেড় বিলিয়ন এবং মুসলিম বিশ্বের সম্পদ ও সুবিধা থাকার পরেও কেন ইসলামিক বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চায় এতো পিছিয়ে? আপনি বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন? অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি?

প্রফেসর পারভেজঃ দুঃখজনক ভাবে সামান্য পরিবর্তনও হয়নি। প্রায় সাতশো বছর আগে মুসলিম সমাজে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার একটি স্বর্ণযুগ ছিলো যা প্রায় চারশো বছর দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিলো। তারপর থেকে ইসলাম ও জ্ঞান -বিজ্ঞান সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে ধাবিত হয়েছে, যা কখনই আর একপথে মিলিত হয়নি। জ্ঞান – বিজ্ঞানে বিভিন্ন অবদান পরিমাপ করা হয় সাধারণত বিভিন্ন আবিস্কার, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন পদ্ধতির উদ্ভাবন দিয়ে। সেদিক থেকে গত সাতশো বছরে ইসলামিক দুনিয়ার অবদান প্রায় না বলার মতই। খুব ক্ষীণকায় কিছু প্রবনতা লক্ষ্য করা গেছে এই শতকের গোড়ার দিক থেকে কিন্তু তাও আবার ম্লান হয়ে গিয়েছিলো আধুনিক দুনিয়ার অত্যন্ত অগ্রসর বিজ্ঞান চর্চার কাছে। এই পিছিয়ে পড়া থেকে মুসলিম বিশ্ব আবারো জ্ঞান বিজ্ঞানের গতি সঞ্চারের খানিকটা চেস্টা করছে।


প্রশ্নঃ এই জ্ঞান – বিজ্ঞান ও সৃজনশীল চর্চার ক্ষেত্রে ইসলামী উলামা – মাওলানাদের ভুমিকা কি বলে আপনি মনে করেন?

প্রফেসর পারভেজঃ প্রথাগত ইসলামী উলামাগন আসলেই একটা সমস্যা, কিন্তু তারাই সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। বড় সমস্যা হচ্ছে ইসলামিজম, ইসলামের মুলাভিমুখী ব্যাখ্যা বা সহজ কথায় ইসলামের মৌলবাদী ব্যাখ্যা যা প্রায়শই ধর্ম ও ধর্মতত্বর এলাকা ছেড়ে সাধারন জনগনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এলাকায় চলে আসে। যেখানে এবং যখনই ধর্মীয় মৌলবাদ জনগনের জীবনের মুল চালিকা শক্তিতে পরিনত হয় সেখানেই অন্ধ বিশ্বাসের মেঘ সকল যুক্তি ও বিবেচনাবোধকে ঢেকে ফেলে। যদি এই ধরনের শক্তি সমাজের মূলধারার ক্ষমতা দখল করে নেয়, তাহলে তারা সমাজের যৌক্তিক চিন্তা ভাবনা করার স্বাধীনতাকে খর্ব করে, বাধা দেয়।

প্রশ্নঃ মুসলমানদের এই ধরনের ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এবং বিজ্ঞানবিরোধী আচরন কি এখনকার মত সবসময়েই একই রকমের ছিলো? নাকি মুসলমানেরা আরো বেশী বিজ্ঞানমুখী ছিলো, ধরুন কয়েকশো বছর আগে?

প্রফেসর পারভেজঃ আমার শৈশবে, বর্তমান সময়ের চরম শক্তিমান মোল্লারা প্রায় হাসি ঠাট্টা কৌতুকের পাত্র ছিলো। তাদের আড়ালে তাদের কে নিয়ে কৌতুক করা হতো। মাত্র শ’খানেক বছর আগেও ফারসী কবি হাফিজ বা রুমী এই সকল ধর্মীয় মোল্লাদেরকে নগ্ন করেছেন, তাদের নির্বুদ্ধিতা কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর আজকের দিনে সেই সকল নির্বোধ মোল্লারাই ইরানের খমতা দখল করেছে। এসবের উত্তর ধর্ম বা ধর্মতত্বে যেমন আছে তেমনি আছে রাজনীতিতেও। খোমেনী এমন একটা মতবাদ ও ব্যবস্থা তৈরী করেছেন যা এই সকল ধর্মীয় মোল্লাদেরকে অসীম ক্ষমতা দিয়েছে, যা এরা আগে কখনও ভাবতেও পারতেননা । ফলে, এরা পাড়ার সাধারন মোল্লা হওয়ার বদলে রাজনৈতিক নেতায় পরিনত হয়েছে। দুর্ভাগ্য  এভাবেই এখন ইসলাম আধ্যাত্মিক ও পারথিব জীবন কে মেলানোর চেস্টা করছে।

প্রশ্নঃ ইদানিং মুসলমানদের মধ্যে বহু ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে যাদের কেউ কেউ কট্টর ইসলামিস্ট এমন কি জঙ্গীও হয়ে উঠছেন। এ প্রসঙ্গে ইসলাম বিষয়ক গবেষক ম্যালিজ রুথভেন বলেছেন – বিজ্ঞান সম্পর্কে  উপরভাসা জ্ঞান ও ধারনাই মানুষকে ধর্ম গ্রন্থের কর্তৃত্ববাদী টেক্সট কে বিশ্বাস করতে শেখায় এবং এ ধরনের জ্ঞানই কুরান কে নির্ভুল বা অভ্রান্ত এই রকমের বিশ্বাস তৈরী করতে সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আপনার মতামত কি?

প্রফেসর পারভেজঃ এই প্রশ্নটিকে অনেক ভাগে ভাগ করতে হবে এবং বেশ কয়েকটি স্তরে উত্তর দিতে হবে। এটা শুধু ধর্মতত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবেনা। বাইবেলে অনেক হিংসাত্মক টেক্সট আছে, কিন্তু তারপরেও অনেক বিজ্ঞানী আছেন যারা বাইবেলে বিশ্বাস করেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে তারা শান্তিতে বিশ্বাসী মানুষ। এক্ষেত্রে বিশ্ব ইসলামিক আন্দোলন কি বয়ে নিয়ে এসেছে সেটা একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। কিছু অর্থে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার মুসলিম ভার্শন, পশ্চিমের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।

কিন্তু আমি এর সামাজিক দিক নিয়েই কথা বলতে চাই, গুরুত্ত দিতে চাই। প্রথমেই আমরা ‘বিজ্ঞানী’ ও ‘টেকনোলজিস্ট’ বা কারিগরি বিদ্যায় শিক্ষিত স্পেসিয়ালিস্টদের আলাদা করতে চাই। ‘টেকনোলজিস্ট’ হচ্ছেন তারা যারা বিজ্ঞানের কিছু বিষয়কে দক্ষতা হিসাবে ব্যবহার করেন কিছু বিশেষ কাজ করার জন্যে, বিজ্ঞান কে তারা ব্যবহার করেন না পৃথিবীর বা প্রকৃতির নিয়ম গুলোকে জানার জন্যে। আমি খুব প্রথম সারির কোনও মুসলিম বিজ্ঞানী কে কখনও ইসলামিস্ট হতে দেখিনি, জঙ্গী হতে দেখিনি, এমন কি কারো কারো গাঢ় ধর্ম বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও। কিন্তু দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেনীর টেকনোলজিস্টরা এই ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এরা হচ্ছেন সেই গ্রুপ যারা বিজ্ঞানের কিছু অংশ ব্যবহার করেন কিছু বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক কাজ করার জন্যে যেমন – ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনোলজিস্ট ইত্যাদি। এরা খুব সহজেই জঙ্গীবাদের দিকে ঝুকে পড়েন। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই ধরনের পেশার মানুষেরা ছাত্রজীবন থেকেই খুব গভীর ভাবে না জেনেই কোনও কিছু বিশ্বাস করবার ব্যাপারে অভ্যস্থ হয়ে ওঠেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কারনেই। এরাই ধর্ম গ্রন্থের প্ররোচনায় বেশী ধরা পড়েন।

প্রশ্নঃ এই ব্যাখ্যা কি পাকিস্থানে শিক্ষিত বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

প্রফেসর পারভেজঃ আমাদের ফিজিক্স এর সেরা ছাত্রদের বেশীরভাগই খুবই মুক্তমনা এবং কদাচিত ধার্মিক। এই সকল ছাত্রদের যথেষ্ট মেধা ও ক্ষমতা আছে ভীড়ের থেকে নিজেদের কে আলাদা করে রাখার। আমার কলিগদের মধ্যে পেশাগত ভাবে সবচাইতে ব্যর্থরাই ধর্ম চর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আর খোলামেলা ভাবে ধার্মিকতা দেখিয়ে বেড়ান। পেশাগত সফলতা ও সক্ষমতা আর জঙ্গী দর্শনের প্রতি আসক্তির মাঝে একটা সম্পর্ক আছে। পেশাগত ভাবে সফল – সক্ষম মানুষেরা ধর্ম ও জঙ্গী দর্শনের হাতছানিতে কখনই ধরা পড়েন না।

প্রশ্নঃ ভারতের অবস্থাও কি একই রকমের?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, সেখানেও একই অবস্থা। আমি দেখেছি সত্যিকারের বিজ্ঞানীদের মাঝে বিজ্ঞান-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি খুব বিরল কিন্তু টেকনলজিস্টদের মাঝে বরং বিজ্ঞান বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি খুবই প্রবল এবং এটা হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজের মাঝেই বিদ্যমান। দ্বিতীয় গোত্রের মানুষ বৃষ্টির জন্যে প্রার্থনা করেন, ভুমিকম্প কে মনে করেন ঈশ্বরের বা আল্লাহর অভিশাপ, মনে করেন ঈশ্বর বা স্বর্গীয় উদ্দেশ্যে মানত করলে অসুস্থ মানুষ ভালো হয়ে উঠবেন, এরা বিশ্বাস করেন পবিত্র পানি যাবতীয় পাপ দূর করে দেবে, এরা চাঁদ তারার হিসাব কষেন বিয়ে করার জন্যে একটা ভালো দিন পাওয়ার আশায়, প্রিয় মানুষের বিপদমুক্তির জন্যে আরেকটা প্রানী যেমন পাঁঠা বা ছাগল জবাই করেন, ধর্ম গ্রন্থ থেকে সুরা বা শ্লোক পাঠ করেন মানসিক রোগীকে ভালোকরার জন্যে, এরা মনে করেন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, এরা মনে করেন কোনও একজন অসীম খমতাধর এই পৃথিবীটাকে ধরে রেখেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কুযুক্তি রীতিমত আঁতকে ওঠার মত।

প্রশ্নঃ ভারত এবং পাকিস্থান উভয়েই নিউক্লিয়ার শক্তির অধিকারী এখন, এটা কি ইঙ্গিত করে যে এই উপমহাদেশের মাটিতে এখন আধুনিক বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়েছে?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, আংশিক ভাবে এটা সত্যি, কিন্তু অযৌক্তিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথটি এখনও অনেক দীর্ঘ । ধরুন – ভারতের নিউক্লিয়ার বোমা পরীক্ষা করা হয়েছিলো পোখরানে, এই পরীক্ষার আগে প্রধান কনসারন বা দুশ্চিন্তার বিশয়টি ছিলো সেই অঞ্চলের পশুদের জন্যে, এবং এই পশু বিশয়ক দুশ্চিন্তার প্রধান কারন ছিলো ধর্মীয়, সত্যিকার অর্থে পশুদের প্রতি ভালোবাসা নয় । ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিং সেই সময়ের নিউক্লিয়ার বোমার বোমার গবেষক দলের কাছে লিখেছিলেন (যে দলে পরবর্তী রাস্ট্রপতি জনাব কালাম ও ছিলেন) পশুদের এই ক্ষয় ক্ষতি অগ্রহণযোগ্য।

প্রশ্নঃ এটা দেখা যায় যে, মুসলিম সংস্কৃতি প্রায়শই বিজ্ঞানভিত্তিক মুক্তচিন্তা, মতামত, চিন্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতা, কোনও বিশয়ের খোলামেলা আলোচনা, বিতর্ক ইত্যাদি কে নিরুতসাহিত করে, বাধা দেয়। সালমান রুশদীর ঘটনার পরে, পশ্চিমেও মুসলমানেরা আইন করে ইসলাম বিশয়ক বিতর্ক বা আলোচনা কে নিষিদ্ধ করতে চায়। আপনি কি মনে করেন কোনও উপায়ে এ ধরনের চর্চার শেষ হতে পারে? কিভাবে?

প্রফেসর পারভেজঃ দেখুন মানব ইতিহাসে “এনলাইটেনমেন্ট” একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। খুব বেশী হলে চারশো বছরের পুরোনো। কেউ হয়তো আশা করতে পারে, মুসলমানেরা একদিন হয়ত এই ধারাকে বুঝে উঠতে পারবে। কিন্তু আসল প্রশ্নটা হচ্ছে এই সকল মৃত প্রথাকে কিভাবে প্রবল ঝাঁকুনি দেয়া যেতে পারে? উত্তরটা হচ্ছে, যে শিক্ষা পদ্ধতি আমাদেরকে প্রশ্ন করতে শেখায়না, প্রশ্ন করতে বাধা দেয়, বরং প্রশ্ন না করে বাধ্যগত হয়ে থাকতে শেখায়, সেই শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মুসলমানদের সংস্কার শুরু হতে পারে কেবল এখান থেকেই। উর্দুতে আমরা বলি – শিক্ষক শুধু তোমার শিক্ষকই নয়, তোমার পিতাও। আর আমাদের সংস্কৃতিতে আমরা বলি বাবা সকল কিছু জানেন, তিনি কখনও ভুল করতে পারেন না। এর মানে হচ্ছে শিক্ষক সবকিছু জানেন, তাঁর ভুল হতে পারেনা। তাঁকে প্রশ্ন করা যাবেনা।

প্রশ্নঃ এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাই কি কর্তৃত্ববাদের উৎস?

প্রফেসর পারভেজঃ এটা শুধু উৎসই নয়, এ ধরনের শিক্ষার পরিণামই হচ্ছে কর্তৃত্ববাদ। বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন করার পদ্ধতি না শিখে, ছাত্ররা এখানে বসে বসে কতগুলো উদ্ভট নিয়ম, ঘটনা আর সংখ্যা মুখস্থ করে। কখনও কখনও শিক্ষক নামের পাহারাদার চোখের সামনে বসে এরা সারাক্ষণ মুখস্থ করে। এরা মুখস্থ করে “যদি ক সত্য হয় তাহলে খ মিথ্যা”, কারন এটাই তাদের টেক্সট বইয়ে লেখা আছে। রাগে আমি দাঁত কিড়মিড় করি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনও ছাত্র আমার সামনে এই ধরনের মুখস্থ বিদ্যা বলার বা ব্যাখ্যা করার চেস্টা করে।

প্রশ্নঃ পাকিস্থানের মত একটি দেশে কিভাবে তাহলে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরী করা যেতে পারে?

প্রফেসর পারভেজঃ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা অনেক পরে আসবে। পরিবর্তন টা শুরু হতে হবে প্রাইমারী ও হাই স্কুল স্তর থেকে। খুব ভালো বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষন পদ্ধতি চালু করতে হবে যেখানে প্রশ্ন করাকে, প্রশ্ন তোলাকে উতসাহিত করা হবে। সাধারন ভাবেই একজন শিক্ষার্থীর মাঝে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে যখন সে পড়াশুনার সাথে তাঁর নিজের মন – মস্তিস্ক কে যুক্ত করতে পারবে, অর্থহীন মুখস্থ করার বদলে। এই জন্যে বস্তুগত বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে। এটা বোঝার জন্যে কারো কগ্নিটিভ সায়েন্স এ পি এইচ ডি করার দরকার নেই যে কম বয়স্ক ছাত্ররা সেই বিশয়গুলোকেই ভালো করে শিখতে পারে, আত্মস্থ করতে পারে, যে বিশয়গুলো হয় তারা দেখতে পায়, ধরতে বা ছুঁতে পারে, শুনতে পারে বা শুঁকে দেখতে পারে। কোমলমতি শিশুরা যখন বড় হতে থাকে তখন তারা বিমূর্ত বিষয়গুলো বুঝতে শেখে, বিভিন্ন প্রতিক কে বুঝতে শেখে, যুক্তি গুলোকে সাজাতে শেখে, নানান তত্ব কে সাধারন জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে। মুখস্থ বিদ্যা মানুষের এই ক্ষমতাগুলোকে হয় ধংস করে দেয় নয়ত চিরতরে অবিকশিত রেখে দেয়।

 

বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষন পদ্ধতি চালু করতে হবে যেখানে প্রশ্ন করাকে প্রশ্ন তোলাকে উতসাহিত করা হবে। সাধারন ভাবেই একজন শিক্ষার্থীর মাঝে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে যখন সে পড়াশুনার সাথে তাঁর নিজের মন – মস্তিস্ক কে যুক্ত করতে পারবে, অর্থহীন মুখস্থ করার বদলে। এই জন্যে বস্তুগত বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে। এটা বোঝার জন্যে কারো কগ্নিটিভ সায়েন্স এ পি এইচ ডি করার দরকার নেই যে কম বয়স্ক ছাত্ররা সেই বিশয়গুলোকেই ভালো করে শিখতে যে বিশয়গুলো হয় তারা দেখতে পায়, ধরতে বা ছুঁতে পারে, শুনতে পারে বা শুঁকে দেখতে পারে। কোমলমতি শিশুরা যখন বড় হতে থাকে তখন তারা বিমূর্ত বিষয়গুলো বুঝতে শেখে, বিভিন্ন প্রতিক কে বুঝতে শেখে, যুক্তি গুলোকে সাজাতে শেখে, নানান তত্ত্ব কে সাধারন জীবনে প্রয়োগ করতে শেখে। মুখস্থ বিদ্যা এই মানুষের এই ক্ষমতাগুলোকে হয় ধংস করে দেয় নয়ত চিরতরে অবিকশিত রেখে দেয়।

 

প্রশ্নঃ তাহলে আমাদের স্বাভাবিক জ্ঞান চর্চার ধরনটি কেমন হওয়া উচিত?

প্রফেসর পারভেজঃ শিক্ষকদের উচিত এই প্রশ্নগুলো তোলা, যেমন – আমরা কিভাবে জানি? বা জ্ঞান লাভ করি? আমরা কিভাবে কোনও কিছু পরিমাপ করি? আমাদের মাপ জোখের সঠিকতা কতটুকু? কিভাবে সেটা নিসচিত করা যাবে? এসবের সপক্ষে এভিডেন্স বা প্রমানাদি কোথায়? এই সকল তথ্য – প্রমানের বা ফলাফলের অর্থবহতা কতটুকু? আমাদের এই সকল ব্যাক্ষ্যার কি কোনও বিপরীত ব্যাখ্যা আছে? কিম্বা এর চাইতে সহজ কোনও ব্যাখ্যা? শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছাত্রদের মাঝে এই ধরনের প্রশ্ন করার ও তাঁর উত্তর খোঁজার অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রশ্নঃ আপনি বলেছেন “কোনও মুসলিম নেতা আজ পর্যন্ত ধর্মকে বিজ্ঞান থেকে আলাদা করার কথা বলেন নি”। আপনি কি মুসলমান সেকুলারিস্টদের এমন কোনও আন্দোলন দেখছেন যেখান থেকে এই ধরনের প্রবনতার পরিবর্তন আসতে পারে?

প্রফেসর পারভেজঃ পাকিস্তানে এমন কোনও কিছু আমি দেখিনি কিন্তু ইরানে এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটছে। ইরান হচ্ছে এই মুহূর্তে ইসলামিক বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সবচাইতে অগ্রসর দেশ। যে শিক্ষা ব্যবস্থাটি তার দেশের জন্যে প্রকৃত অর্থেই কাজ করবে তেমন শিক্ষা ব্যবস্থাই চালু করেছে। পাকিস্থানের নেতারা যেখানে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, সেখানে আয়াতোল্লাহ খোমেনি সুস্পষ্ট ভাবে বিজ্ঞান ও ধর্মকে বিচ্ছিন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। এমন কি আয়াতোল্লাহ খোমেনি এও বলেছিলেন যে “ইসলামিক গণিত” বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। এমন কি তিনি ডারউইনিজম এর বিরুদ্ধেও অবস্থান নেননি। বাস্তব সত্যি হচ্ছে ইরান হচ্ছে একটি বিরলতম মুসলিম দেশ যেখানে বিবর্তনবাদ পড়ানো হয়। এটা সম্ভবত এইজন্যে যে শিয়া মুসলিমরা সুন্নীদের চাইতে সামাজিক ভাবে অনেক উদার মনস্ক এবং বিবর্তন বিশয়ক ধারনাটা তারা সুন্নীদের মত করে বোঝেন না। শিয়া মহিলারা একটা লম্বা চাদর কিম্বা হিজাব পরিধান করেন কিন্তু অন্যান্য দেশ গুলোর মত গাঢ় কালো বুরকায় সমস্ত কিছু ঢেকে দেন না। আমি তেহরানের রাস্তায় মহিলা ট্যাক্সি ড্রাইভার দেখেছি যা নিউ ইয়র্কের রাস্তাতেও বিরল। স্টেম সেল রিসার্চের জন্যে ইরান একটি প্রথম দিককার দেশ কিন্তু জর্জ ডাব্লিউ বুশ এই স্টেম সেল রিসার্চ আমেরিকায় নিষিদ্ধ করেছিলেন।

প্রশ্নঃ পাকিস্থানের মাদ্রাসাগুলো বিশেষ করে দেওবন্দি মাদ্রাসাগুলো অগ্রসর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা কে কতটা কঠিন বা অসম্ভব করে তুলেছে?

প্রফেসর পারভেজঃ দেওবন্দি – সালাফি – ওয়াহাবী ও এই ধরনের ধারা গুলো যুক্তি ও জ্ঞান – বিজ্ঞান ভিত্তিক কোনও ধারনা কিম্বা স্বর্গীয় কোনও বিষয়ে অনুপস্থিতি এ সকল ধারনা গুলোকে গ্রহন করার ক্ষেত্রে এখন অনুপযুক্ত। এগারোশ শতকে খাজা নিজাম উল মুল প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেওবন্দি মাদ্রাসা গুলো তাদের প্রাক-বিজ্ঞান যুগের কারিকুলামই অনুশিলন করে যাচ্ছে।এই সকল মাদ্রাসা গুলো ১৯৭০ এর পর থেকে আরো বিপদজনক হয়ে উঠেছে যখন থেকে সৌদি আরব এই অঞ্চলে ওয়াহাবী মতবাদ প্রচারের জন্যে তাদের পেট্রো-ডলার ঢালতে শুরু করেছে। হাজার হাজার মাদ্রাসা তৈরী হয়েছে সেই সময় আমেরিকা, সৌদী আরব ও পাকিস্থানের যৌথ উদ্যোগে, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আমেরিকা – পাকিস্থান ও সৌদী আরবের যৌথ জিহাদের জন্যে। সি আই এ এই সকল মাদ্রাসা কে বিনামুল্যে লক্ষ লক্ষ কুরআন উপহার দিয়েছে, আমেরিকায় ডিজাইন করা ও ছাপানো কোটি কোটি জিহাদী বই-পুস্তক এই মাদ্রাসা গুলোতে এসেছে আফগান ছাত্রদের জিহাদী করে গড়ে তোলার জন্যে। এই মাদ্রাসাগুলো শেষ পর্যন্ত তালিবানদের নার্সারিতে পরিনত হয়েছে।

প্রশ্নঃ মাদ্রাসা গুলোকে সংস্কার করার কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি?

প্রফেসর পারভেজঃ ৯/১১ এর ঘটনার পরে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ কে প্রচুর পরিমানে টাকা দেয়া হয়েছিলো আমেরিকার তরফ থেকে এই মাদ্রাসা শিক্ষা কে সংস্কার করার জন্যে। এই টাকা দেয়া হয়েছিলো মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম কে আরো বিস্তৃত করে ইংরেজী, বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার বিষয়ক শিক্ষা কে যুক্ত করার জন্যে। বিশাল অংকের টাকা খরচ করা হয়েছিলো কোনও সাফল্য ছাড়াই।এই প্রবল নারী বিদ্বেষী, আধুনিকতা বিরোধী জঙ্গী গোষ্ঠী কখনই সংস্কারকে স্বাগত জানাবেনা। পাকিস্তান রাস্ট্র আক্ষরিক অর্থেই এদের কাছে বন্দী। এরা পাকিস্তানের সব কটি বড়ো শহর কে অচল করে দিতে পারে, এদের সেই শক্তি আছে। অন্যদিকে পূর্ব আফ্রিকা, ভারত ও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের মাদ্রাসাও দে্খা যাবে। রক্ষনশীলতার মাঝেও তারা কিছু সেকুলার সাবজেক্ট পড়ানোর অনুমতি দেয়। এই অঞ্চলের কোনও কোনও মাদ্রাসায় এমন কি অমুসলিমরাও পড়াশুনা করতে পারে, যা পাকিস্থানে কল্পনার অতীত।

প্রশ্নঃ আপনি বলেছেন অত্যন্ত নিম্নমানের বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশনার কথা,ইরানে এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে, এবং সেখানে যারা তাদের লেখা প্রকাশ করেন সেই সকল লেখাও অত্যন্ত নিম্নমানের। এমন কি বেশীরভাগ মুসলিম দেশগুলো অন্যের লেখা থেকে চুরি করাকেও সহ্য করে নেয়, এমন কি সেটা কোনও বই কিম্বা পি এইচ ডি থিসিসের বেলাতেও এই ধরনের চৌর্যবৃত্তি চলে। আপনার কি মনে হয় এই ধরনের ক্ষতিকর প্রবনতার কারন কি?

প্রফেসর পারভেজঃ আমি এই প্রবনতা কে বলি “পেপার পলিউশন” বা প্রকাশনার জঞ্জাল। এই সকল জঞ্জাল মার্কা প্রকাশনা ও চুরী করে লেখা বই আরটিকেল এর পাহাড়ের কারন হচ্ছে, প্রকাশনার জন্যে বিরাট অংকের সন্মানী দেয়া হয়, কি প্রকাশনা হচ্ছে সেদিকে কারো কোনও খেয়াল নেই। কিছু গবেষনায় মাঝে মাঝে সারবস্তু থাকে কিন্তু বেশীরভাগ প্রকাশনাতেই সে সবের কোনও বালাই নেই। সরকারী মহলে কিছু মানুষ বসে আছেন যারা এই ধরনের আবরজনা প্রকাশনা কে উতসাহিত করেন। বর্তমান ব্যবস্থাতেই এই ধরনের চর্চা কে বন্ধ করা সম্ভব, শুধুমাত্র যদি সকল ধরনের অর্থনৈতিক প্রনোদনা কে বন্ধ করে দেয়া যায় এবং চুরি করে বা নকল করে লেখা সকল প্রকাশনার জন্যে চরম শাস্তির বিধান রাখা হয়।

প্রশ্নঃ আপনি এটাও বলেছেন যে “এখানে কায়দ ই আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে, পাকিস্থানের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, নাটক কে সমর্থন করা হয়না”। একি ধারা এমন কি যুক্তরাজ্যের ও কিছু স্কুলে দেখা গেছে, সেখানে এমন কি দাবা খেলাও নিষিদ্ধ, দাবা খেলাকে তুলোনা করা হয়েছে শুকরের রক্তে হাত রাঙ্গানোর সাথে। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম পরিবার থেকে আসা বহু মেধাবী শিশু – কিশোর – তরুন কে সম্ভাবনাময় অভিনেতা, সঙ্গীত শিল্পী, নাট্যকার, পরিচালক, লেখক হওয়া থেকে বঞ্চিত করে এবং করছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

প্রফেসর পারভেজঃ এখানে এখন প্রকাশ্য যুদ্ধ চলছে উদারনিতিবাদী – মধ্যপন্থী মুসলমানদের সাথে গোঁড়া মুসলমানদের। আধুনিক ও প্রথাবাদী চিন্তার মধ্যে অসমাপ্ত লড়াইটা এখন আরো ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। মুসলমান হয়া সত্ত্বেও বেশীর ভাগ পাকিস্থানী এখন তাদের কন্যা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চায়, শিক্ষিত করতে চায় কিন্তু চরমপন্থি মুসলমানেরা চায় এ ইচ্ছাকে ঠ্যাকাতে। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্রীদের কে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়, সঙ্গীতের যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে ফেলা হয়, ছাত্র – ছাত্রীদের এক সাথে সামাজিক – সাংস্কৃতিক আদান প্রদানে বাধা দেয়া হয়।


প্রশ্নঃ এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি তালিবানদের কোনও ভুমিকা আছে?

প্রফেসর পারভেজঃ হ্যাঁ, ২০০৯ সাল পর্যন্ত এরা মোট ৩৫৪ টা স্কুল বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে এবং তারা হুকুম জারী করেছে যে ২০০৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর পরে পাকিস্তানের কোনও মেয়ে শিশু স্কুলে যেতে পারবেনা। মেয়েরা ঘরে থাকবে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তারা একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের ক্যাফেটেরিয়ায় আত্মঘাতি বোমা হামলা চালায়, এই ঘটনার পরে পাকিস্থানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সময়ে অপর একজন আত্মঘাতি বোমাবাজ ছেলেদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টারগেট করে।


প্রশ্নঃ ইসলামিস্টরা একটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা মারলো?

প্রফেসর পারভেজঃ সেটাই, এই ঘটনা সারা দেশে এক ধরনের শোক ও শক এনে দিয়েছিলো। কারন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিলো খুবই রক্ষনশীল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখানে মেয়েরা যথেষ্ট পর্দা অনুসরন করতো, তাও তাদের কে সন্তুষ্ট করেনি। মুসলমানেরাই অন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। এই যুদ্ধে যদি চরমপন্থিরা জয়ী হয়, কিম্বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে, তাহলে এই অঞ্চলে আর কখনও মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা, আবিস্কার, বিজ্ঞান চর্চা এসবের কিছুই হবেনা। আধুনিক যন্ত্রপাতি কিম্বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের সমস্যা নয়, আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন।

 

আধুনিক যন্ত্রপাতি কিম্বা দ্রুতগতির ইন্টারনেট আমাদের সমস্যা নয়, আমাদের মুল সমস্যা হচ্ছে চিন্তার দাসত্ব থেকে মুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আমাদের পরম স্বাধীনতা অর্জন।

 

Spread the love